আনোয়ারায় ২২ বছর ধরে একই স্থানে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার

প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

আনোয়ারা প্রতিনিধিঃ 

আমি আওয়ামীলীগের গোপালগঞ্জের লোক, খালেদা জিয়ার পিএসও আমার লোক, কেউ আমাকে কিছু করতে পারবেনা! আমি আওয়ামীলীগ করি, আমার বাড়ী গোপালগঞ্জে, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, কেউ আমাকে কিছু করতে পারবেনা, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তারা সবাই বিএনপির লোক। বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও আমাকে কিছু করতে পারবেনা। খালেদা জিয়ার পিএস শামসুল হক আমার লোক! ২২ বছর ধরে আনোয়ারায় কাজ করছি। সবাই আমাকে চাই, আখতারুজ্জামান বাবু সাহেব আমাকে বদলী করেছেন, ভূমিমন্ত্রী জাবেদ সাহেব এনেছেন। আনোয়ারায় পশু খামারিরা যথাযথ চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগের প্রশ্নে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. দেলোয়ার হোসেন এসব কথা গুলো বলেন। খামারীদের অভিযোগ টাকা ছাড়া মিলেনা কোন সেবা। জানা যায়, ২০০৩ সালে ডাঃ মো. দেলোয়ার হোসেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব নিলেও তারও ২ বছর আগে আনোয়ারা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১২ সালের অক্টোবরে তিনি বদলী হলে ২০১৪ সালের নভেম্বরে আবারো আনোয়ারা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু উপজেলার অর্ধশত খামারীই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেন। দিনের অধিকাংশ সময় তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানা যায়। কিন্ত এসব অভিযোগের কোন তোয়াক্কা করেন না ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. দেলোয়ার হোসেন উত্তেজিত হয়ে বলেন, অভিযোগ কারীরা বিএনপির লোক। আমার বাড়ী গোপালগঞ্জে, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, আওয়ামীলীগ করি, কেউ আমাকে কিছু করতে পারবেনা। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তারা সবাই বিএনপি। চাতরী এলাকার খামারী নুরুল হুদা চৌধুরী জানান, টাকা ছাড়া ডা. দেলোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায় না। তিনি কাউকে পরোয়ানা কওে না। প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলার বিষয়ে আমার মত খামারীকেও তিনি বলেননি। আনোয়ারার দুগ্ধ খামারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান জানান, উপজেলার অনেক খামারীর অভিযোগ ডা. মো. দেলোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়না। অনেক সময় গরু মারা যাওয়ার উপক্রম হলেও তাকে পাওয়া যায়না। ডাক্তার দেলোয়ার হোসেনের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, কোন সরকারী কর্মকর্তা উগ্র-আচরণ করতে পারেনা। জনগণের সেবা করার জন্যই সরকার আমাদের নিয়োগ দিয়েছেন। আনোয়ারা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেনকে অনেক সময় আমিও পাইনা। তার এ ধরণের আচরণ ভাল না। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।