সাবেক ২য় স্ত্রীর বর্তমান স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন ডাঃ ফয়সাল!

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবার চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকা অব্দি পৌছে গেছে। এবার তার সাবেক ২য় স্ত্রী ফাতিহা খানমের বর্তমান স্বামী মোঃ সাজ্জাদ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থানায় জিডি করা হয়েছে৷

গত ৩ জুলাই সাজ্জাদ হোসেন তার নিজের জীবননাশ ও তার স্ত্রীকে তুলে নেয়ার হুমকিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ডিএমপি’র বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন যা উক্ত তারিখে ১৬১ নং হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।

জিডিতে দেয়া তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের ১ জুলাই মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে ফাতিহা খানমের সাথে রাঙ্গুনিয়ার লালা নগর নিবাসী মৃত নুরুল আবছারের সন্তান ডাঃ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। ফয়সাল ইকবাল ও ফাতিহার পারিবারিক সম্মতি ও উপস্থিতিতে এই তালাক কার্যকর হয় বলে জিডিতে উল্লেখ আছে৷ চলতি বছর ২৪ জুন রাজধানী ঢাকার উত্তর বাড্ডার একতা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরের ছেলে সাজ্জাদ হোসেনের সাথে ফাতিহা খানমের পারিবারিক ভাবে সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন করে বিয়ে হয়৷ বিয়ের পর সাজ্জাদ ও ফাতিহা সুখে শান্তিতে বসবাস করছিলেন৷ কিন্তু গত ২৬ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সাজ্জাদ হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ডাঃ ফয়সাল ইকবাল তার ০১৮১০…..১৯  নাম্বার থেকে লাগাতার হুমকি ধমকি প্রদান করছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন৷ এসময় ডাঃ ফয়সাল ইকবাল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাজ্জাদ ও তার পরিবার একই সাথে ফাতিহা এবং তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ জানানো হয়৷

এ ব্যাপারে অনুসন্ধানে জানা যায়, সাজ্জাদ ও ফাতিহা বিয়ের পর রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অবস্থান করেন৷ সেখান থেকে কয়েকদিন পর স্ত্রী নিয়ে সাজ্জাদ তার বাসায় ফিরলে সেখানে তারা ঘন্টা পাঁচেক থেকে ফাতিহার বাসায় চলে আসেন৷

সাজ্জাদ ও ফাতিহার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত সাজ্জাদের বাবা অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর কারণে সাজ্জাদ ফাতিহাসহ শ্বশুর বাড়িতে উঠেন৷ মূলত এরপর থেকেই ডাঃ ফয়সাল ইকবাল হোয়াটস এপে সাজ্জাদকে কল দিয়ে হুমকি ধমকি দেয়া শুরু করে৷ সূত্রটি আরো জানায়, ইতিমধ্যে সাজ্জাদ নিজের বাড়িতে ফিরলেও তার স্ত্রী ফাতিহা ফিরতে রাজি হননি৷

এই বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আমার জীবননাশের আশঙ্কা থেকেই জিডি করেছি৷ তাকে হুমকি দেয়া ব্যক্তিটি ডাঃ ইকবাল। কেন কি জন্যে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছিলো জানতে চাইলে জিডিতে উল্লেখিত তথ্যের বাহিরে কিছু জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন৷ এক পর্যায়ে বিষয়টি নিজেরা সুরাহা করেছেন জানালেও জিডিটি এখনো বহাল আছে। তবে সেটাও তিনি তুলে নিবেন বলে জানান৷ আগামীতে স্ত্রী ফাতিহার সাথে সংসার করবেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি তো সংসার করার জন্যেই বিয়েটা করেছি।”

এই বিষয়ে জানতে ডাঃ ফয়সাল ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এর আগেও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদককে হত্যার হুমকির ঘটনায় ডাঃ ফয়সালের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি জিডি করা হয়।

ডাঃ ফয়সাল ইকবালের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে : চট্টগ্রাম বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ ফয়সালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন৷ দুদক বলছে ডাঃ ফয়সাল ইকবালকে বিশেষ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলেও এর আওতা হবে অনেক বড়। বিভিন্ন ব্যাংক এবং সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসহ প্রত্যেকটা দপ্তরে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে করোনাকালিন সময়ে পিপিই দুর্নীতি, কোভিড হাসপাতাল হিসেবে চট্টগ্রামের হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালকে প্রস্তুতির নামে শিল্পপতিদের কাছ থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও ইমপেরিয়াল হাসপাতাল চালুর জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে বিএমএ নেতা ফয়সল ইকবালের অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট ১২ দফা অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। এতে বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফয়সল ইকবাল বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। শুধু ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে চমেক হাসপাতালে প্রায় ৪২ কোটি টাকার টেন্ডার তিনি একাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। না‌মে বেনা‌মে তার নিয়ন্ত্রিত প্র‌তিষ্ঠানগু‌লো দি‌য়ে কো‌টি কো‌টি টাকা হা‌তি‌য়ে নি‌য়ে‌ছেন ডাঃ ফয়সাল। বিএমএ’র চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক হওয়ায় ফয়সল ইকবাল কাউকে পরোয়া করেন না। তিনি চমেক হাসপাতালের নিয়োগ-বদলি, ঠিকাদারি থেকে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চমেক হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার খাবার সরবরাহ, আউটসোর্সিং ব্যবসাসহ বিভিন্ন সরবরাহ কাজেরও নিয়ন্ত্রণ করেন ফয়সল ইকবাল।

নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাডে তিনি প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নেন। জটিল ও কঠিন শর্ত সংযোজন করে আর কোনো ঠিকাদারকে তিনি টেন্ডারে অংশ নিতেও দেনন না।
গত ২২ বছর ধরে চমেক হাসপাতালে দৃশ্য-অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। ফয়সলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট বাজার দরের চেয়ে অনেক বেশি দামে খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে। আউটসোর্সিংয়ের এক-তৃতীয়াংশ জনবল সরবরাহ করে ওই সিন্ডিকেট।

চট্টগ্রামে চিকিৎসাখাতে নৈরাজ্যের জন্য বরাবরই দায়ী করা হয় স্থানীয় রাজনীতিতে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন সমর্থিত ডা. ফয়সাল ইকবালকে। করোনাভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চিকিৎসাক্ষেত্রে নৈরাজ্য তৈরির জন্য বরাবরই সামনে আসছিল বিতর্কিত চিকিৎসক নেতা ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর নাম। একই অভিযোগ উঠে আসে পুলিশের এক গোপন প্রতিবেদনেও। সূত্র: বাংলাদেশ বুলেটিন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.