খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়িতে বিপন্ন হয়ে উঠছে বনের ময়না। ময়না দ্রুত পোষ মানার কারণে শৌখিন পাখি পালকদের কাছে এর চাহিদা রয়েছে। তাই পাহাড়ি বা হিল ময়না সবচেয়ে বেশি শিকার হয়। এটি মূলত হিল ময়না বা পাহাড়ি হিসেবেই পরিচিত।
খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বন্যপ্রাণী ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী, কোনো সংরক্ষিত বা পরিযায়ী পাখি হত্যা ও শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ময়না ও টিয়া এ আইনে শিডিউলভুক্ত রক্ষিত প্রাণী। কেউ যদি এ ময়না শিকার করেন, তাহলে এক বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কেউ যদি পুনরায় একই অপরাধ করে তাহলে দুই বছরের জেল এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। ’
তিনি আরও জানান, ‘গত দুই বছর আগে খাগড়াছড়িতে শিকার হওয়া দুটি হিল ময়না আলুটিলা পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়। খাগড়াছড়ি বন বিভাগ হিল ময়না পাচার ও শিকার রোধে তৎপর রয়েছে। আমাদের কাছে খবর আসলেই আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ’
খাগড়াছড়ির বন্যপ্রাণীবিষয়ক আলোকচিত্রী সবুজ চাকমা বলেন, ‘হিল বা পাহাড়ি ময়না দ্রুত পোষ মানে এবং মানুষের অনুকরণে কথাও বলতে পারে। সে কারণে এর চাহিদাও বেশি থাকে। শৌখিন পাখিপ্রেমীদের কারণে হিল ময়না আজ বিপন্নের পথে। প্রতি জোড়া ময়না বয়স ভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।’
ময়নার বৈজ্ঞানিক নাম গ্রাক্যুলা রিলিজিওসা। রিলিজিওসা শব্দের অর্থ সুন্দরের দ্যোতক। ময়নার গায়ের পালক উজ্জ্বল কালো। ময়নার পা ধবধবে হলুদ। এরা সাধারণত বৃক্ষের উঁচু ডালে থাকতে পছন্দ করে। লম্বায় দশ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশ, নেপালসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের এদের দেখা মিলে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মহালছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, পানছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি অরণ্যে হিল ময়না শিকারের তৎপরতা বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাখি শিকারি বলেন, ‘বর্ষা ছাড়া বছরের অন্য সময়ে পাখি শিকার করি। এখন ময়না ছাড়াও কোয়েল পাখি ধরা পড়ছে বেশি। প্রতি জোড়া ময়না স্থানীয়ভাবে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করি। এসব ময়না খাগড়াছড়ির বাইরের যায়। বিশেষত ঢাকা ও চট্টগ্রামে বেশি পাঠানো হয়। তবে এখন গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে পাখির সংখ্যাও কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় হিল ময়না ন্যূনতম আশঙ্কাযুক্ত প্রাণী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।