হুবহু দলিলেই খতিয়ান অথচ বালামে নেই কোন রেকর্ড -নেপথ্যে দালাল চক্র, নীরব কর্তৃপক্ষ 

সাতকানিয়ায় দালালচক্রের হাতেই তৈরী হয় দলিলও খতিয়ান

 

সৈয়দ আককাস উদদীন সাতকানিয়া 
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় রেজিষ্ট্রী অফিস থেকে একটা সহিমরি দলিল নিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি সহকারি কার্যালয় থেকে একটি নামজারী খতিয়ান সৃজিত হয় নিয়ম অনুযায়ী।
তবে হুবহু  যে সহিমরি দলিল দিয়ে নামজারী খতিয়ান সৃজন হয় সেই দলিলের দাতা গ্রহীতা মৌজা দাগ কিছুই মিল নেই উপজেলা রেজিষ্ট্রেশন অফিসের মূল বালামে!
একই নাম্বারের দলিলটি আরেক ইউনিয়নের আরেজন দাতাও গ্রহীতা আরেক মৌজার।
প্রশ্ন ওঠেছে হুবহু দলিলের সহিমরি বানানোর সাতকানিয়া রেজিষ্ট্রেশন অফিসে সেই কর্তারা কারা?
এবং ওই  জাল দলিলেই সৃজন করা খতিয়ানের নেপথ্যে ভূমি অফিসের সেই দালাল চক্র কোনটা?
সোমবার(১০ই এপ্রিল) সকালে সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি সহকারী অফিস এবং উপজেলা রেজিষ্ট্রেশন অফিস কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়েও এমন কোন প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
বলা হচ্ছিল উপজেলার সোনাকানিয়ার ৩নং ওয়ার্ডের তাতী পাড়ার মৃত আলী আকবরের ছেলে নাছিম আলীর কথা।
তিনি ২০১৭সালের ৩১শে জুলাই সাতকানিয়া রেজিষ্ট্রেশন অফিসেও যায়নি তবুও তার জায়গা বেচা বিক্রি হয়ে গেল পরবর্তীতে তার বিপরীতে খতিয়ানও সৃজন হলো সে কিছুই জানেনা এই গায়েবী পর্ব সম্পর্কে।
কিন্তু ২০২১সালে তার পৈতৃক জায়গা একই এলাকার মৃত টুনু মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম নুরুল আলমরা দখলের পায়তার করলে তারা ধমক দিয়ে একটি দলিলের সহিমরি এবং একটি নামজারী খতিয়ান দেখালে চমকে যান নছিম আলীও তার পুত্র রফিকরা।
সেই থেকে শুরু হয় দলিলের আসলেই শুরুটা কোথায় আর নামজারী খতিয়ানের ইতিহাসটা কী?
উপজেলা রেজিষ্ট্রেশন অফিসে গেলে মূল বালামে নাছিম আলীর দেয়া ২০১৭সালের ৩৮৩২ নং দলিলের খোঁজ নিলে অফিস কর্তৃপক্ষ ওই নাম্বারের দলিল খোঁজে দেখেন সোনাকানিয়া ইউনিয়নেই ওদিন কোন দলিল সৃজন হয়নি ওই দলিলের দাতা গ্রহীতা সকলেই চরতীর!কিন্তু ওই দলিলেই জায়গা চলে যাচ্ছে সূদুর সোনাকানিয়ার ৩নং ওয়ার্ডেই।

 

এমন নজিরবিহীন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাতকানিয়ার সাবরেজিস্টার মো:জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন এটা আমাদের অফিসের কোন কারসাজি নেই,সহিমরি দলিলটা দিয়ে কিভাবে নামজারী খতিয়ান তৈরী করলো তা ভূমি অফিসই জানবে,এদিকে রেজিষ্ট্রেশন অফিসের কর্মকর্তা মো:শাকিলও একই কথা বলেন-তিনি বলেন ওই দলিলটা ধরলেই বুঝা যাচ্ছে নকল দলিল এই বিষয়ে আমরা বলব দলিলটা আমাদের তৈরী করা নয় এটা অন্য একটা চক্রের হতে পারে।
এদিকে ওই জাল দলিল দিয়ে সুক্ষ ভাবে তৈরী হয় সোনাকানিয়া মৌজার ৪৭১২নং সৃজিত খতিয়ান যাহার নামজারী জমা ভাগ মামলা নং ০৩/২০২০।
অপরদিকে সাতকানিয়ার একাধিক বাসিন্দা বলেন-,রেজিষ্ট্রেশন অফিস আর ভূমি অফিসের দালালচক্র মূলত একটাই, এই চক্র থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দুনো অফিসের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী এই প্রতারণা কাজ করতে সিদ্ধহস্ত।
দুনো অফিসের কর্মকর্তাও কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এটা কিছুতেই সম্ভব না।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.