লামায় উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির,ইউএনও’র শত চেষ্টায়ও পাচ্ছেননা সদুত্তর
অর্থ সংকটেও টিকে থাকার লড়াইয়ে ইউএনও মঈন
সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে
বান্দরবান পার্বত্য জেলার সর্ববৃহৎ ও জনবহুল উপজেলা লামা। তবে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ সংস্থান না থাকায় এখানকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত থমকে রয়েছে। বিশেষ করে ইজারাকৃত হাট-বাজার ও টোল পয়েন্টের রাজস্বের বড় অংশ বকেয়া থাকায় আর্থিক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লামা উপজেলায় ৭টি টোল পয়েন্ট ও ৪টি হাট-বাজার ইজারা প্রদান করে। সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব ইজারাকৃত রাজস্ব থেকে লামা উপজেলা পরিষদের প্রাপ্য অংশের পরিমাণ ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। তবে নির্ধারিত অর্থবছর পার হলেও পুরো অর্থ এখনো উপজেলা পরিষদকে হস্তান্তর করা হয়নি।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা পরিষদের দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, বকেয়া রাজস্ব পরিশোধের জন্য অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে একাধিকবার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে অবহিত করা হলেও এখনো প্রাপ্য অর্থ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদ গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে উপজেলা পরিষদের নামে ইস্যুকৃত চেক নং–EU1007275634 এর মাধ্যমে ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫০ টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে এখনো উপজেলা পরিষদের পাওনা রয়েছে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৩০ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লামা উপজেলায় ইজারাকৃত টোল পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে—আজিজনগর-গজালিয়া সড়ক, ফাঁসিয়াখালী রাজাপাড়া রাঙা সড়ক, আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়ক, ফাইতং বানিয়ারছড়া সংলগ্ন সড়ক, সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও নদীপথসহ মোট ৭টি টোল পয়েন্ট। এসব টোল পয়েন্ট থেকে মোট ইজারাকৃত অর্থ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এছাড়া লামা বাজার, গজালিয়া বাজার, চাম্বি মফিজ বাজার ও ডলুছড়ি বাজারসহ ৪টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়, যার মোট ইজারাকৃত মূল্য ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
ইউএনও মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী ইজারাকৃত প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ১০ টাকা পায় আঞ্চলিক পরিষদ। বাকি ৯০ টাকার মধ্যে জেলা পরিষদ পায় ৫৫ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ পায় ৪৫ টাকা। এছাড়া পৌরসভার আওতাভুক্ত বাজার হলে, প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে পৌরসভা পায় ৪০ টাকা, বাজার ফান্ড পায় ৪০ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ পায় ২০ টাকা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রাপ্য অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় লামা উপজেলা পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হলে উপজেলা পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে