রয়টার্সের প্রতিবেদন, ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

লন্ডনে প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে এসে মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হারান। এরপর দলের চেয়ারম্যান হন তিনি। এবার দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তারেক রহমান ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাড়ি জমান। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, শেখ হাসিনার পতনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতায় তারেক রহমানের এই উত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভাবনীয় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রচারে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে ক্ষমতায় গেলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এমন সাংবিধানিক সংস্কার আনা হবে যাতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা যায়।
এ ছাড়া তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং কেবল তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্প বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি দলের ক্ষমতায় আসা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক বড় পরিবর্তন। একদিকে তিনি তার বাবা ও মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন ‘পলিসি মেকার’ বা ‘নীতি-নির্ধারক’ হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছেন। মাঠপর্যায়ে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে এই নির্বাচনের ফ্রন্টরানার বা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নির্ধারিত হবে তারেক রহমানের এই ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতা’র সফর চূড়ান্ত পরিণতি পান কি না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.