সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন প্রতিনিধি কমিটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফাইড একাউন্ট থেকে লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সম্প্রতি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আপনার প্রতিনিধি টিম হিসেবে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে আমাদের ইউনিয়নে এমন কিছু ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের দালালি, হাইব্রিড রাজনীতি এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। এতে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
জাবেদ জাহাঙ্গীর রিপন আরও লিখেন, এ ধরনের ব্যক্তিরা আপনার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অবৈধ প্রভাব বিস্তার, দখলবাজি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। যা আপনার সম্মান ও দলের সুনামের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করে আসা নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে পুনরায় একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তিনি নিজের সম্পর্কে লিখেন, আমার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ২০০১ সালের (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। সে সময় কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড তেমহনী সাইক্লোন সেন্টারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মিছিল ও সভায় আমাদের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল মোনাফ সওদাগরের নেতৃত্বে এবং আমার দাদা মরহুম হাজী নওশাঁ মিয়া সওদাগরের হাত ধরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ হয়।
পরবর্তীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। তারমধ্যে ২০১০ থেকে ২০১২ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদল, ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সাতকানিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০২৩ থেকে একই ইউনিটের আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছি।
সর্বশেষ তিনি লিখেন, দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং, হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রায় ৫৪টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়াও ১৭ বার গ্রেপ্তার, ২৬ দিন রিমান্ড এবং সর্বমোট ৭৮৪ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার থেকেই এই সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছি। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার (সংসদ সদস্য) নেতৃত্বে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আপনার অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিকতার ফলেই এই বিজয় অর্জিত হয়েছে।