রেঞ্জার আনিসুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল হুমকির মুখে বন্যপ্রাণী
চুনতী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের চঞ্চল কুমার তরফদার এখন কোটিপতি -
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ভয়াবহভাবে বেড়েছে বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু-মাটি উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চল দখল, পাহাড় ধ্বংস এবং অবৈধ মাটি-বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের ফলে অপরিসীম ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তাকে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়। দলীয় ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো
এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে চক্রটি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না। সরেজমিনে জানা যায়, চুনতি বন্যপ্রাণী
অভয়ারণ্য বিটের মুরুং গাড়া মুলাম ঝিরি মুখে লম্বা করে বাঁধ নির্মাণ, গুচ্ছগ্রাম পশ্চিম পাশে পাহাড়ের সমতল অংশে এবং রাতাখাল এলাকায় নুরর মুরগি ফার্মের আশপাশে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন, গুচ্ছগ্রাম পশ্চিম পাশে পাহাড় কেটে মাছের প্রজেক্ট তৈরি, বড় গোদার পশ্চিম পাশে বিশাল টিলা কেটে সাবাড়। মাটি বিক্রি ও পাগলি খালের আশপাশে সেগুনসহ নানা প্রজাতির গাছ
কেটে বনশূন্য করছে একশ্রেণির প্রভাবশালী
লোহাগাড়ার চুনতি বিটে টিলা কেটে সাবাড়
সিন্ডিকেট। তাছাড়া কয়রাতি, টাড়ালি বিল, বড়ঘোনা, পানির ছড়া, ভুলইন্না, পাগলি খালের আগাসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে শত শত পানের বরজ। স্থানীয় কয়েকজন বরজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি পানের বরজ তৈরি করার জন্য ১৫-২০ হাজার টাকা গুনতে হয়। কেউ যদি সে টাকা প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকারি জায়গা উদ্ধারের কথা বলে সেই স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে টাকা না দিলে বনাঞ্চলের মাঝে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয় বলে জানান তারা।
জানা যায়, চুনতি রেঞ্জ কার্যালয়ের পিছনে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে এলাকার রেললাইনসংলগ্ন ও আশপাশের এলাকায় গভীর গর্ত করে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বনাঞ্চল এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি ও বালু পরিবহন করা হলেও বন বিভাগের নেই
কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এদিকে চুনতি বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদারের বিরুদ্ধেও দখলদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন মামলা ও উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। জানা গেছে, চুনতি অভয়ারণ্যে দখলদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা দায়ের করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে বনখেকোদের দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে
পড়েছে। গাছ কাটা, পাহাড় কাটা, অবৈধ বসতি স্থাপনের ফলে এখানকার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। পরিবেশকর্মী সানজিদা রহমান বলেন, লোহাগাড়া এক বিশাল বনজ সম্পদের ভান্ডার ছিল, যা আজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। শত চেষ্টা করেও এই ভয়ংকর দানবদের হাত থেকে পাহাড়, বন আর
নদীর বাল রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমি এই স্থবিরতায় ভীষণ আতঙ্কিত, কারণ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় এবং অর্থবহ ভূমিকা পালন করতে না পারলে, এ অঞ্চল ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়বে, তথা অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হবে। এ বিষয়ে চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জ
কর্মকর্তা আনিসুর জামান শেখ বলেন, তথ্যের ভিত্তিতে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বনবিটে অভিযান পরিচালনা করেছি এবং অভয়ারণ্য একটি জায়গাতে কাটা তারের বেড়া দিয়েছিল, সে কাটা তারগুলো নিয়ে এসেছি। তিনি আরো বলেন, যারা বনাঞ্চলের জায়গা দখল করে বাগান করেছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন বিভাগের আওতায় নিয়ে আসা হবে।