চুরি করে শিশু বিক্রি, তাও ৯শ টাকায়

বন্দর নগরী থেকে চুরি হওয়া এক শিশুকে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির পর শিশুটিকে মাত্র ৯০০ টাকায় নিম্ন আয়ের এক দম্পতির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। চুরির সঙ্গে জড়িত এক নারীসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩১ মে) হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর মঙ্গলবার (১ জুন) তার বাবা-মার কাছে তুলে দিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গ্রেফতার দুইজন হলেন- সুলতানা বেগম সুমি (২৬) ও মো. ইসমাইল (৩৫)।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন জানান, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর নগরীর রেলওয়ে স্টেশন কলোনির বাসা থেকে আট মাস বয়সী ফারহানকে চুরি করা হয়। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সুলতানা তাদের বাসায় যায়। ছেলেকে সুলতানার কোলে দিয়ে তার মা তসলিমা ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এক ফাঁকে ফারহানকে নিয়ে সটকে পড়েন সুলতানা।

এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পাঁচ মাস ধরে তদন্ত করে পুলিশ সিলেটে অপহরণকারীর অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর সুলতানাকে সিলেটের শাহজালালের মাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর সুলতানা জানায়, চুরির পর শিশুটিকে সে হবিগঞ্জের ইসমাইলের কাছে দিয়েছে। পরে ইসমাইলকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যে হবিগঞ্জের এক দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় — জানান ওসি।

ওসি নেজাম আরও বলেন, চুরির পর সুলতানা ও ইসমাইল মিলে মাত্র ৯০০ টাকায় এক দরিদ্র দম্পতির কাছে তারা বিক্রি করে। যদিও পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রির কথা হয়েছিল। কিন্তু পুরো টাকা তারা দিতে পারেনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.