ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, ১৩ বছর আগে সুজনের বিয়ে হয় সুতৃষ্ণা দাশের সাথে। এই ঘরে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তারা আসকার দীঘি এলাকায় থাকেন। সম্প্রতি সুজন আরেক মেয়ের সঙ্গে পরকিয়া করতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে ধরা পড়ে যান। বিষয়টি নিয়ে দুইজনের মধ্যে প্রায়ই বাগবিতণ্ডা হতো। সর্বশেষ তিনদিন আগে এ বিষয়ে তুমুল ঝগড়া হলে সুতৃষ্ণা পূর্ব গোসাইলডাঙ্গায় মিনু ম্যানশনে বাবার বাসায় চলে আসেন।
‘সুজন বারবার স্ত্রীকে তার বাসায় ফিরে যেতে বললেও সুতৃষ্ণা বাবার বাসা ছেড়ে যেতে রাজি হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই সুতৃষ্ণা ও তার বাবা-মাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে সুজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন দুইটি চাপাতি কেনে। শনিবার রাতে চাপাতি নিয়ে মিনু ম্যানশনের ৫ম তলায় ওঠার সময় তাকে দেখে ফেলেন সুতৃষ্ণা। তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। সুজন প্রথমে দরজা ধাক্কা দেয়। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা না খোলায় এলোপাতাড়ি দরজায় কোপাতে থাকে। এতে দরজা কিছুটা নড়বড়ে হলে ভেতরে আলনা, টেবিল, সোফা দিয়ে দরজা আটকে রাখেন সুতৃষ্ণা ও তার পরিবার। এসময় সেখান থেকে থানায় ফোন করলে রাত সোয়া ১১টায় পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। কিন্তু পুলিশকে দেখে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুজন। এসময় চাপাতি নিয়ে পুলিশের দিকেও তেড়ে আসে’।
ওসি জানান, একপর্যায়ে নিজের গলায় চাপাতি ধরে সুজন। পুলিশ চলে না গেলে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দেয়। অবশেষে এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বিভিন্ন কৌশলে সুজনকে নিবৃত্ত করে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তার কাছ থেকে নতুন কেনা দুটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টা, হত্যাপ্রচেষ্টা ও হুমকি প্রদর্শনের অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।