সৈয়দ আক্কাস উদদীন
চট্টগ্রামে পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ ইটভাটা বন্ধের পদক্ষেপ থামাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সরাণাপন্ন হলেও সেখানে পাত্তা পেলেন না ২৩ ইটভাটার ১৮ মালিক। অবধৈ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
তবে এসব অবৈধ ইটভাটা ভেঙে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালককে (চট্টগ্রাম) নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আপিলের শুনানিতে ইটভাটার মালিকদের আবেদনের বিপক্ষে আদেশ আসায় অবৈধ ইটভাটা ভাঙতে আর কোনও বাধা রইলো না। তবে এ আপিলের বিষয়ে আগামী ২৯ আগস্ট আপিল শুনানির জন্য দিন ঠিক করেছেন আদালত।
চেম্বার জজ আদালতের আদেশের বিষয়টি রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
তিনি জানান, এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ২৩ ইটভাটার ১৮ জন মালিকের পক্ষে করা আবেদন শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে ইটভাটা মালিকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহমুদা বেগম। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ কামরুল হোসেন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
এর আগে চট্টগ্রামে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে গত ৩১ জানুয়ারি বিচারপতি মো. মজিবর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশে লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত চট্টগ্রামের সব অবৈধ ইটভাটা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বন্ধ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে ডিসি ও পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালককে (চট্টগ্রাম) নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আদালতের নির্দেশ অনুসারে ইটভাটা বন্ধের কর্যক্রম শুরু করলেও লোহাগড়া ও চন্দনাইশ উপজেলাসহ কিছু কিছু জায়গায় ইটভাটা বন্ধ না করে শুধু জরিমানা করে। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রেক্ষিতে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিল্লুর রহমান ও এসএম আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, জরিমানা করার পরেও ওই ইটভাটাগুলো আবারও চলছে এবং পরিবেশ দূষণ করছে। ওইদিন আদালতে শুনানি শেষে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালককে জেলার যে ৭১টি ইটভাটাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে, তাসহ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত সব অবৈধ ইটভাটা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বন্ধ করে আদালতে হলফনামা দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি দিন রেখেছিলেন।
এদিকে গতকাল ১০ই ফেব্রুয়ারী (বুধবার)দিনব্যাপী চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের টীম অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালালে ও অপর দিকে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন অভিযানের বিষয়ে চুপ থাকায় সচেতন নাগরিকরা হতাশ হয়েছেন বলে জানা যায়,তবে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের মত সাতকানিয়ায় ও কখন অভিযান পরিচালনা করা হবে তা জানতে ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম চৌধুরীকে।
এদিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানাযায়,লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের মত ধারাবাহিক ভাবে সাতকানিয়ায় ও অভিযান পরিচালনা করা হবে এক্ষেত্রে কাউকেই ছাড়ঁ দেয়া হবেনা।