দুর্নীতি মামলায় জামিন নামঞ্জুর টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপের

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দুর্নীতি মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ আশফাকুর রহমান এ আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রতন চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমরা জামিন আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এক মাস পর শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন  আদালত। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী চুমকি করণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরের বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি করে কার ও মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব এবং কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাটের মালিক প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। তার চার কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক। এ ছাড়া চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অভিযোগপত্রে ২৯ জনকে এই মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন মামলা করেন। দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১), মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
প্রদীপ কুমার দাশ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের উত্তর সারোয়াতলী গ্রামের মৃত হরেন্দ্র লাল দাশের ছেলে। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চুমকি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া তিন কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে, যা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেন প্রদীপ।