আদালতে হলফনামা সম্পাদনার পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং ঘোষণা দিয়েও বিয়ে না করার অভিযোগে তাওহিদুল ইসলাম (২৯) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) প্রতিবেদন দিতে আদেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযুক্ত তাওহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক (পিএসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী কিশোরীর গৃহশিক্ষক ছিলেন তাওহিদ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উভয়ে চট্টগ্রাম আদালতে গিয়ে এক আইনজীবীর কাছে হলফনামা সম্পাদন করেন- আপাতত তারা আলাদা থাকবেন, দু’বছরের মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার পর বিয়ে করবেন তারা।
এরপর থেকে তাওহিদ সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকেন। ২০২০ সালে তাওহিদ ক্যাডেট এসআই হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। একবছর তিনি রাজশাহীর সারদায় ট্রেনিংয়ে ছিলেন। ট্রেনিংয়ে থাকাকালীন উভয়ের মধ্যে ভিডিও কলে যোগাযোগ হতো। কিন্তু ট্রেনিং শেষ করে এসে তাওহিদ সব ভুলে যান এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুবেল পাল বলেন, ‘আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার পরও বিয়ে না করায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। এর আগে একই বিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার কাছে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।