এক ভাগিনার আতংকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকা

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২১

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার শহরের মূর্তিমান আতংক শহীদুল। ভয়ংকর এই ছিনতাইকারীর রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।

পর্যটন শহরের নানা স্পটজুড়ে দীর্ঘদিন যাবত অব্যাহত রয়েছে তার ছিনতাই ডাকাতি।

নানান সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাভোগের পর মুক্ত হয়ে ফের শুরু হয় তার পেশাগত ছিনতাই কর্ম।

তবে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তবুও তার অপকর্ম থামছে না। পুলিশি তাড়া উপেক্ষা করে যখন যেখানে খুশি সুযোগ বুঝে ছিনতাই করে সে।

ভয়ংকর এই ছিনতাইকারীর কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পর্যটক এবং স্থানীয়রা। তার শিকারের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া অনেক সময় ভাগ্যের ব্যপার হয়ে দাড়ায়।

কেননা দুধর্ষ এই ছিনতাইকারী কখন কোথায় কাকে টার্গেট করে তা বুঝে উঠার কোন সুযোগ নেই বল্লেই চলে।

এছাড়াও নানান অপরাধের পরেও সে প্রকাশ্যে সশস্ত্র বিচরণ করে। তার অপরাধের প্রতিপক্ষ মনে করলেই শুরু হয় টার্গেট হামলা।

মুলত শহীদুলের এই ছিনতাই গ্রুপটি সন্ধ্যার পর থেকে গভীররাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করে। অনেক সময় এলাকার অলি-গলির সামনে উৎপেতে থেকে সুযোগ বুঝে ছিনতাই করে গলির ভিতরে ঢুকে পড়ে।

কক্সবাজার শহরের শীর্ষ ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিতি শহিদুল ইসলাম প্রঃ ভাগিনা। সে শহরের ১০ নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব মোহাজের পাড়া এলাকার আবছার ড্রাইভারের ছেলে।

জানাযায়, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে রাত ৯ টার দিকে শহিদুল ইসলাম (২১) প্রঃ ভাগিনা এবং তার অন্যান্য কয়েকজন সদস্য মিলে একব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে দুটি মোবাইল সেট ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন।

কিছুদিন পর শহরের গোলদিঘীর পাড়স্থ মারকাস জামে মসজিদের সামনে এক শ্রমিককে মারধর করে মোবাইল সেট ও নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এই শহিদুল ইসলাম।

এঘটনায় ওই শ্রমিক বিষয়টি অপর একজন শ্রমিককে অবগত করলে তিনিও ঘটনাস্থলে যান।

তখন শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪/৫ জন ছিনতাইকারী মিলে দুই শ্রমিককে মারধর করে এবং সাথে আসা অপর শ্রমিকের মোবাইল সেট ও টাকা ছিনিয়ে নেন।

গত ২৪ জুলাই রাতে পূর্ব মোহাজের পাড়া এলাকায় রোমা আক্তারের বাড়িতে ঢুকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ মোবাইল সেট চুরি করে শহিদুল ইসলাম। এই ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর রাত দেড়টার দিকে শহরের পেশকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহকে বার্মিজ মার্কেট এলাকায় শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত মিলে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

এছাড়া কয়েক মাস আগে বৌদ্ধ মন্দিরের ভিতরে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় খুন হন কাউন্সিলর পুত্র সেজান। ওই খুনেও জড়িত রয়েছে শহিদুল ইসলাম। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

তথ্যমতে, ভয়ংকর এই ছিনতাইকারী শহীদুল দীর্ঘদিন ধরে শহরের বৈদ্যঘোনা, গোলদিঘীর পাড়, মোহাজের পাড়া, ঘোনার পাড়া, বৌদ্ধ মন্দির ও হাসপাতাল সড়ক এলাকায় ছিনতাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এসব এলাকায় গত দুই বছরে যেসব ছিনতাই হয়েছে সবখানে সরাসরি জড়িত রয়েছে শহিদুল ইসলাম। তার সাথে রয়েছে সশস্ত্র কয়েকজন সদস্য।

সম্প্রতি মোবাইল ছিনতাইয়ের ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এসকল সদস্যদের হাতে খুন হন সেজান। সেজান খুন হলেও অধরা রয়েছে শহিদুল ইসলামসহ ছিনতাইয়ের গ্রুপটি।

অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় বহু বার কারাগারে ছিল শহিদুল ইসলাম। শহরের চিহ্নিত অনেক ছিনতাইকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করতে সক্ষম হলেও বরাবরই অধরা থেকে যাচ্ছে ভয়ংকর এই ছিনতাইকারী শহীদুল।

কারাগার থেকে বের হয়ে শুরু করে ছিনতাই কাজ।দীর্ঘ দেড় থেকে দুই বছর সে রয়েছে অধরা। যার কারণে বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ছিনতাইসহ বহু অপরাধ।

সেজান হত্যার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও এখন প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ এই ছিনতাইকারী শহিদুল ইসলাম। সন্ধ্যা থেকে গভীররাত পর্যন্ত শহরে বিচরণ রয়েছে তার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান ছিনতাইকারী শহিদুল ইসলামের কারণে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ঝুকিপূর্ণ জীবনযাপন করছি। কিন্তু করার কিছুই নেই। সবসময় ছুরি নিয়ে চলাফেরা। কারো কথা শুনে না। বেপরোয়া জীবন-যাপন।

খোদ শহীদুলের বাবা মোঃ আফছার প্রাঃ আফছার ড্রাইভার বলেন, শহীদুলকে আমি ছোটবেলা থেকে লালন পালন করেছি। সে আমার নিজের সন্তান নয়। কিন্তু নিজের সন্তানের মতোই আগলে রেখে এতো বড় করেছি।

এই শহীদুল ভয়ংকর একজন অপরাধী। সে পরিবারের কাউকে পাত্তা দেয়না। আমি জানি সে পেশাদার ছিনতাইকারী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তারজন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সে আমাদের প্রাণনাশ করে দিবে। তাই আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তার কারনে দশটা মায়ের বুক খালি হওয়ার চাইতে সে কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় না।

তার কবল থেকে রক্ষা পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে জানান। সর্বোপরি তিনি স্থানীয়দের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে তালিকাভূক্ত ছিনতাইকারী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাগিনার নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়।