চট্টগ্রামে ১৭৩ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিল চসিক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির স্বাধীনতার জন্য অনেক বড় বড় মনীষী আপ্রাণ চেষ্টা করেও স্বাধীনতা এনে দিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করেছেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।

এ কারণেই হাজার বছরের ইতিহাসে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। কিন্তু দুভার্গ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে ক্ষান্ত হয়নি ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামও মুছে দেওয়ার সব অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। তারা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধু কাগজে লেখা একটি নাম নয় বঙ্গবন্ধু বাঙালির অন্তরে ধারণ করা একটি নাম ও ইতিহাস।

তিনি বলেন, ইতিহাসের সন্তানেরা কোনো দিন মরে না, তারা মৃত্যুহীন। দীর্ঘ ২১ বছরের মধ্যে আজকের প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতভাবে বোঝানো ও শেখানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এই ইতিহাসকে আবার নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছেন। মেয়র নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্ব গ্রহণে প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান।

তিনি স্মরণ করে দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনসহ তাদের জীবন বাজি রেখে যে অবদান রেখে গেছেন সেই দীক্ষায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে।

রোববার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে চসিক কর্তৃক ১৭৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী। বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব ডা. জাফরউল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, আফরোজা কালাম ও কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সচিব খালেদ মাহমুদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সব কিছুতেই অগ্রগামী, সর্বযুগে সব আন্দোলন, সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নেও চট্টগ্রাম সবার আগে ছিল। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম থেকে তৎকালীন ইপিআর’র ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনা হয় এবং তারপর দিনেই কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এ কারণে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা অনন্য।

তিনি বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের যদি আমরা সংবর্ধনা না দেই তাহলে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে না। এতে করে প্রকৃত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা থেকে আমরা বঞ্চিত হব।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, লেখক ও ইতিহাসবিদদের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে যুদ্ধকালীন স্থানীয় বিভিন্ন কার্যক্রম, অপারেশন ও যুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে চসিকের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.