টেকনাফে বরাদ্দের টাকা, ইউপি সদস্যের আত্মীয়র পকেটে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র ও অসহায়দের জন্য ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই টাকা গরিব ও অচ্ছল লোকদের বঞ্চিত করে সচ্ছল ও ধনী ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বহিরাগত ও প্রবাসীও রয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। টাকা বরাদ্দের সঙ্গে জড়িতরা উৎকোচের বিনিময়ে দুর্যোগসহনীয় এই বরাদ্দ সচ্ছল লোকজনকে দিয়েছেন। তালিকায় টাকা বরাদ্দকারীদের আত্মীয়স্বজনও রয়েছে অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও পরিবারে উপার্জনক্ষম কোনো সদস্য নেই, এমন পরিবার ও অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অনুকূলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই টাকাগুলো বরাদ্দ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক রেডক্রস।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, টিনশেড পাকা বাড়ির মালিক কাঞ্জর পাড়ার দুই বাসিন্দা। তারা দুজনে হোয়াইক্যং ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহজালালের আত্মীয়। তাদের কোনো রকম অভাব-অনটন নেই। একই অভিযোগ ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য জালালের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সমাজ পরিচলনা কমিটির সদস্য শুক্কুর জানান, জালাল মেম্বার সব কার্ড নিজে ভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে কেউ সাহস পাচ্ছে না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কল দিলে ইউপি সদস্য শাহজালাল কাজের ব্যস্ততা দেখান এবং ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। সদস্য জালালের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গাফফার জানান, যাদের জন্য এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তারা এই টাকাগুলো পাচ্ছে না। শুধু ১০ হাজার টাকাই নয়, সরকারের দেওয়া ত্রাণ ও টাকা লুটপাট করে খাচ্ছে ইউপি সদস্যরা। এটি দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় তরুণ তারেক মাহমুদ রনি বলেন, কয়েক দিন ধরে দেখতেছি হোয়াক্যং এনজিওর দেওয়া টাকা দুর্নীতি করে নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ। এটা খুবই দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নূর আহমেদ আনোয়ারারী বলেন, টাকা বিতরণে অনিয়মের কথা আমি শুনেছি। এ বিষয়ে এনজিও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার কথাও হয়েছে। এটা তদন্ত করা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, এটি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।

আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রকল্প কর্মকর্তা বলেন, আমি কিছু বলতে পারব না। গণমাধ্যমকে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নেই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.