প্রোটিয়াদের কাছে ধবলধোলাই বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

মাঠ পাল্টালেও পাল্টায়নি বাংলাদেশের দুর্দশা। প্রথম টেস্টটি ২২০ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টে এসে সেই লজ্জা বেড়েছে আরও বেশি মাত্রায়। এবার বাংলাদেশের হার ৩৩২ রানের ব্যবধানে। এতেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হলো বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অল আউট হয়েছে ৮০ রানে। প্রোটিয়াদের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়েছেন কেশভ মহারাজ আর বাকি তিনটি নিয়েছেন সাইমন হারমার।

দক্ষিণ আফ্রিকার কল্যাণে ফলো-অনে ব্যাট করতে নামতে হয়নি বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়াদের ৪৫৩ রানের জবাবে বাংলাদেশ ২১৭ রানে অলআউট হয়। তবে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে না পাঠিয়ে নিজেরাই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। যাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে লিড দাঁড়ায় ৪১৩। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া তাইজুল ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ৩৪ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

এরপর বড় লিডের জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশ। কেশভ মহারাজের ঘূর্ণিতে প্রথম ওভারেই ফিরেছেন তরুণ মাহমুদুল হাসান জয়। তৃতীয় ওভারে আরেক তরুণ নাজমুল হোসেন শান্তকেও ফেরান মহারাজ।

এরপর তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক দাঁতে দাঁত চেপে দিন শেষ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্পিন বিষ সামলাতে পারেননি তামিম। সিমন হার্মারের দুর্দান্ত এক বলে ব্যক্তিগত ১৩ রানের মাথায় ফিরেছেন তামিম। তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছে সেখানেই।

চতুর্থ দিনে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপরেই অধিনায়ক মুমিনুল হককেও হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ১১তম ওভারের তৃতীয় বলে এলগারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন মুশফিক। এটি কেশভ মহারাজের এই ইনিংসে তৃতীয় শিকার। বাংলাদেশ ৩৪ রানে হারাত চতুর্থ উইকেট। এরপর বিরতি কেবল এক ওভারের। আবারও বল হাতে এলেন মহারাজ। আর এসেই প্রথম বলেই তুলে নিলেন মুমিনুলকে। ২৫ বলে ৫ রান করে মুমিনুল ফিরলেন দলীয় ৩৮ রানের মাথায়।

পরের ওভারের শেষ বলে হারমারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে উইলিয়ামসের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ইয়াসির আলী রাব্বি। এর আর বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারেননি লিটন দাস, মেহেদি মিরাজরা। ২১তম ওভারে লিটন দাস যখন ফিরলেন তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান ৬৯। লিটন ফিরলেন ২৭ রান করে। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ ব্যাট চালিয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় ৮০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২০ রানে তিনি ফেরেন মহারাজের বলের উইকেটের পেছেন ক্যাচ দিয়ে। এরপর শেষ দুই উইকেটে কোনো রান তুলেই ফেরেন তাইজুল আর খালেদ। এতেই বাংলাদেশ অলআউট হয় ৮০ রানে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পায় ৩৩২ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

প্রথম ইনিংস

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৩৬.২ ওভারে ৪৫৩ (এলগার ৭০, এরউইয়া ২৪, পিটারসেন ৬৪, বাভুমা ৬৭, রিকেলটন ৪২, ভেরেইনা ২২, মুল্ডার ৩৩, মহারাজ ৮৪, হার্মার ১৯, উইলিয়ামস ১৩, অলিভিয়ের ০*; খালেদ ২৯-৬-১০০-৩, মিরাজ ২৬.২-৪-৮৫-১, ইবাদত ২৮-৩-১২১-০, তাইজুল ৫০-১০-১৩৫-৬, শান্ত ৩-০-৯-০)।

বাংলাদেশ: ৭৪.২ ওভারে ২১৭/১০ (তামিম ৪৭, জয় ০, শান্ত ৩৩, মুমিনুল ৬, মুশফিক ৫১, লিটন ১১, ইয়াসির ৪৬, মিরাজ ১১, তাইজুল ৫, খালেদ ০*, এবাদত ০); (অলিভিয়ের ১৫-৪-৩৯-২, উইলিয়ামস ১২-২-৫১-০, হার্মার ১০.২-১-৩৯-৩, মহারাজ ২৪-৬-৫৭-২, মুল্ডার ১৩-৭-২৫-৩)।

২য় ইনিংস

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৯.৫ ওভার, ১৭৬/৬; (আরউই ৪১, এলগার ২৬, পিটারসেন ১৪, বাভুমা ৩০, রিকেল্টন ১২, ভেরেইনা ৩৯*, মুল্ডার ৬); (এবাদত ৫-০-২৯-০, খালেদ ১০-০-৩৮-১, তাইজুল ১৫-২-৬৭-৩, মিরাজ ৯.৫-৩-৩৪-২)

বাংলাদেশ: ২৩.৩ ওভার, ৮০/১০; (তামিম ১৩, জয় ০, শান্ত ৭, মুমিনুল ৫, মুশফিক ১, লিটন ২৭, ইয়াসির ০, মিরাজ ২০, তাইজুল ০, খালেদ ০, এবাদত ০*); (মহারাজ ১২-৩-৪০-৭, হারমার ১১.৩-১-৩৪-৩)

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজের সবকটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল জিটিভি। এছাড়াও বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম র‍্যাবিটহোলের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে খেলা। অনলাইনে র‍্যাবিটহোলে খেলা দেখতে ব্রাউজ করুন https://www.rabbitholebd.com/

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.