সাতকানিয়া-রোহিঙ্গা জামাই বউকে খুন করে লুকিয়ে রাখে টয়লেটের চাক্কিতে -জামাই আটক

দায় এড়াতে পারেনা বাড়িওয়ালা

 

সৈয়দ আককাস উদদীন

সাতকানিয়া-রোহিঙ্গা জামাই বউকে খুন করে লুকিয়ে রাখে টয়লেটের চাক্কিতে তবে জামাই আটক।

সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মাদারবাড়ির মৃত সৈয়দ আহমদ পুত্র নুরুল ইসলামের ভাড়া ঘরের পেছনে টয়লেটের চাক্কিতে।

আজ ১৮ই জুলাই(সোমবার)বিকাল ৪টায় কেঁওচিয়ার মাদারবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এই লাশ।

এই ঘটনায় নিহত মহিলার স্বামী বার্মাইয়া উখিয়ার ১০নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুল শুক্কুরের ছেলে মোঃবাবুলকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জানাযায়- কক্সবাজারের সদর উপজেলার চৌফলদন্ডি এলাকার সৈয়দ করিমের মেয়ে শামসুন্নাহারকে ৪বছর আগে বিয়ে দেন বার্মাইয়া ব্যক্তি বাবুলকে। আটক বাবুল পেশায় রাজমিস্ত্রীর যোগাল্যা হিসেবে কাজ করে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায়।

সে বউ(নিহত শামসুন্নাহা)কে নিয়ে কেঁওচিয়ার ৯নং ওয়ার্ডে মাদার বাড়ি এলাকার নুরুল ইসলামের ভাড়া ঘরে ভাড়ায় থাকত।
কিন্তু কোন কারণে গেল ১৩ই জুলাই রাতে যে কোন সময় স্ত্রী শামসুন্নাহারকে হত্যা করে, তাদের ভাড়া ঘরের পুরনো বাংলা টয়লেটের চাক্কির ভেতর মাথা নিচের দিকে দিয়ে পা উপরে দিয়ে,পাশে নির্মাণ কাজের জন্য আনা বালি দিয়ে পা দিয়ে চেপে চেপে লাশ চাক্কির ভেতর পুঁতে ফেলে। এর পরের দিন বাজার থেকে নতুন একটা স্লেপ (ঢাকনা)এনে চাক্কির উপর বসিয়ে নিরাপদ বোধ করতে থাকে ঘাতক বাবুল।
লাশ বাড়ি থেকে বের করার সময় ঘাতক বার্মাইয়া বাবুল অন্য ভাড়াটিয়াদের বলেছিল স্ত্রী অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন বাবুল।

শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হননি বার্মাইয়া বাবুল কক্সবাজারের শশুর বাড়িতে কল করে বউ(শামসুন্নাহার) এর ভাগনেকে বলেন স্ত্রীর অসুখ হয়েছে ডাক্তার দেখাতে হবে তাই বাবুলের বিকাশে টাকা পাঠাতে।
তখন ভাগনে বাবুলকে বলেন টাকা বিকাশে দিব আমার আন্টিকে ফোন ধরিয়ে দেন- তখন ফোন ধরিয়ে না দিলে নিহত(শামসুন্নাহার) এর ভাগনে টাকা নিয়ে সাতকানিয়া আসলে বাবুল আর তার কল রিসিভ করেনা।
তখন কেরানীহাট থেকে অপরিচিত নাম্বার দিয়ে বাবুলকে কল করিয়ে কৌশলে বাবুলকে ধরে ফেলেন নিহতের ভাগনে।

তখন থেকেই সাতকানিয়া দোহাজারীর বার্মায়া কলোনীর একটি কবরস্থানে শামসুন্নাহার অসুস্থ হয়ে মারা গেলে ওখানেই দাফন করা হয়।
কিন্তু ওখানে গিয়েও সত্যতা না পেলে ভাগনের সন্দেহ হয়। তখন ভাগনের পক্ষ থেকে সাতকানিয়া থানাকে খবর দেয়া হলে কৌশলে বাবুল স্বীকার করেন তার বউ স্ট্রোক করলে সে খরচের অভাবে দাফন করতে না পেরে পেছনের টয়লেটের চাক্কির ভেতর পুঁতে ফেলেন তবে সে হত্যা করেনি।

তখনি সাতকানিয়া থানার ওসি তদন্ত মোঃশফিকও এসআই সুব্রত দাশসহ একটি টীম নিয়ে ঘাতক বাবুলের দেখামত জায়গা থেকে নিহত (শামসুন্নাহারের পচনধরা লাশ)উদ্ধার করা হয় বলে জানান সাতকানিয়া থানা পুলিশ।

 

 

এদিকে সাতকানিয়া থানার ওসি তদন্ত শফিকুল ইসলাম জানান-নিহতের লাশ উদ্ধার করেছি আর সাথে নিহতের স্বামী রোহিঙ্গা বাবুলকেও গ্রেফতার করেছিও মামলা প্রক্রিয়াধীন।

 

 

এদিকে আটক বাবুলের বাড়িওয়ালা নুরুল ইসলাম সন্ধ্যা থেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
তার বাড়িতে গিয়ে বাড়িওয়ালার খোঁজ নিলে বাড়িওয়ালা নুরুল ইসলামের অনুপস্থিতে তার পুত্রবধু বলেন আমার শশুর ডাক্তারের কাছে গেলো সন্ধ্যায়।

পুত্রবধুকে প্রশ্ন করা হয় ভাড়া দেয়ার সময় ভাড়াটি থেকে আইডিকার্ড নেয়া হলো কিনা?তখন তিনি বলেন এদেরকে ভাড়া দিয়েছে মূলত আমার প্রবাসী দেবর মিশকাত।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.