সাতকানিয়ার টমটম চালক সায়মনকে লোহাগাড়ায় নিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ

হত্যার শিকার ছদাহার ফজুরপাড়ার সিরাজের ছেলে সায়মন

 

সৈয়দ আককাস উদদীন

সাতকানিয়ার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানও টমটম চালককে ভাড়ায় নেয়ার কথা বলে কৌশলে লোহাগাড়ার চুনতি নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে নিহত করার অভিযোগ ওঠেছে আপন চাচাও চাচাত ভাইদের বিরুদ্ধে।

 

গেলো শুক্রবার রাতে সাতকানিয়ার ছদাহার ফজুর পাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সায়মন (১৯)কে ভাড়ার কথা বলে চুনতি নিয়ে যান কয়েক দূর্বৃত্ত পরে চুনতীর নির্জন জায়গায় গিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন আগে থেকে ওতঁপেতে থাকা তার চাচাত ভাই ফারুকও আরমানসহ বেশ কিছু দূর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে(সায়মনকে)চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করা হলে আজ (২৭শে জুলাই)বুধবার সকালে ছুরিকাঘাতের ফলে চমেক এ মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন নিহত সায়মনের পিতা রিক্সাচালক সিরাজুল ইসলাম।

আজ নিহতের পরিবার আর ঘাতক সায়মনের এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে একাধিক স্থানীয়রা বলেন-মূলত ফরমানুল্লাহ ছেলে হচ্ছে আরমানও ফারুক।
আর সিরাজুল ইসলামের ছেলে হচ্ছে নিহত সায়মন।
সিরাজুল ইসলাম আর ফরমানুল্লাহ আপন ভাই।

ভাইদের মধ্যে ভিটি-মাটি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গ্রাম্য শালিসসহ পরিষদেও বিচার চলে আসছিল।

কিন্তু ফরমানুল্লাহর ছেলেরা বেপরোয়া আর একটু স্বচ্ছল হওয়ার সুবাদে আরমান আর ফারুকরা মিলে সবসময় সিরাজুল ইসলামের গায়ে হাত তুলতো- পরে পিতাকে চাচাত ভাইদের রোষানল থেকে বাঁচাতে প্রায় সময় সায়মন এগিয়ে আসতো।

আর এই এগিয়ে আসাটাই কাল হলো নিহত সায়মনের।

সায়মনকে তার চাচাত ভাইগন প্রায়সময় দেখে নেয়ার হুমকী দিচ্ছিল বেশকিছুদিন ধরে।

পরে এই চাচাত ভাইয়েরা সুকৌশলে অপরিচিত অন্যলোক দিয়ে সায়মনের চালিত টমটম রিক্সায় ওঠে চুনতীর জাইল্লা পাড়া নির্জন এলাকায় গিয়ে তাকে(সায়মন)কে পূর্বপরিকল্পিত ছুরিকাঘাত করেন।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে ফরমানের কাছে জমি দখল বেশী ছিল। কিন্তু বিচারের মাধ্যমে সিরাজুল হককে তাদের কিছু জমি ছেড়ে দিতে হয়েছিল। এঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিন ফরমানের ছেলে ফারুক ফজুর পাড়ার সেন্টারের চায়ের দোকানে জনসম্মুখে ও আমার উপস্থিতিতে সাইমুনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল।

তখন আমি বকা দিয়ে তাকে ঐ স্থান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

তিনি(মেম্বার) আরো বলে,সায়মনকে হামলার ঘটনার আগের দিন তারা সবাই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল।

ঘটনার একদিন পরে তারা বাড়িতে পূণরায় এসে হাস মুরগী যা ছিল সব বিক্রি করে দিয়ে আবার চলে যায়৷

অদ্যাবধি তাদের কেউ বাড়িতে আসেনি। এতে বুঝা যায় এ ঘটনাটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকান্ড।

ফারুকের নানার বাড়ি সাতকানিয়ার বাজালিয়ার মাহালিয়া।
এদিকে লোহাগাড়া থানা পুলিশের ওসি জানান-হত্যার ঘটনায় প্রথমে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান।

সাতকানিয়া সার্কেলের এ্যাডিশনাল এসপি বলেন-হত্যার ঘটনায় ১দিন আগে একটি মামলা হয়েছে এখন আবার ওই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।
আমরা আদালতে আবেদন পাঠায়ছি।
দোষীদের আমরা দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারব।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.