জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সবকিছুর দাম বাড়লেও স্বাস্থ্য খাতে খরচ বাড়েনি এতোদিন। এবার এ খাতেও আঁছড়ে পড়ছে মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ। রিএজেন্টের দাম বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রামে ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্টের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে হাসপাতাল মালিকরা। এর মধ্যে দুই দফায় এই বিষয়ে বৈঠকও করেছেন তারা। খুব শিগগিরই আরেকটি বৈঠক করে টেস্টের নতুন মূল্য নির্ধারণ করার কথা বলছেন হাসপাতাল মালিক সমিতির নেতারা।
সুনির্দিষ্টভাবে না বললেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এসব টেস্টের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির কথা ভাবছেন ক্লিনিক মালিকরা। তবে হাসপাতালের খরচ বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত ভাবছেন না তারা।
অন্যদিকে চিকিৎসক নেতারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের এমন ভাবনা অযৌক্তিক নয়। তবে এক্ষেত্রে রিসেশনটা যেন যৌক্তিক মূল্যের বেশি কোনভাবেই না হয় তা খেয়াল রাখতে হাসপাতাল মালিকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। হাসপাতাল মালিকরাও বলছেন, চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্যই দফায় দফায় বসছেন তারা।
ল্যাব টেস্টের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান সিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা এখনো রিসেশন করিনি। দুই বার মিটিং করেছি। আরেকটা মিটিং করে রিসেশনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবো। খরচ যেভবে বেড়েছে রিসেশন না করেতো উপায় নাই।’
নিজেদের অবস্থানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘দেখুন মাঝে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছিল। এখন লোডশেডিং বেড়েছে। তো আমাদের ডিজেলের ব্যবহার বেড়েছে। আবার ডিজেলের দামও বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলও যাচ্ছে আগের মত। এর মধ্যে কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর দাবি আছে। আবার ল্যাব টেস্টের রিএজেন্ট যেগুলো আমরা ব্যবহার করি সেগুলোর দামও বেড়েছে। এসব কারণে আমাদের এমন সিদ্ধান্তে যেতে হচ্ছে।’
তবে এই মূল্যবৃদ্ধি শুধুই ল্যাবগুলোতে হবে হাসপাতালের খরচ বাড়ানোর বিষয়টি এর আওতাভুক্ত নয় জানিয়ে পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ সিভয়েসকে বলেন,‘আমাদের এমনিতে খরচ অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তবু আমরা হাসপাতালের সার্ভিস চার্জসহ কোন কিছুই আপাতত বাড়াবো না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকিরাও এখন পর্যন্ত তাই ভাবছে। সবার কথা বলতে পারছি না তবে আমরা হাসপাতাল সাইডে কোনভাবেই সার্ভিস চার্জ বা গ্রাহকের কোন খরচই বাড়াবো না।’
চট্টগ্রামের চিকিৎসক নেতাদের মধ্যে রোগীদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলায় সুনাম আছে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ম ম মিনহাজুর রহমানের। সিভয়েসকে তিনি বলেন, ‘দেখুন এই পরিস্থিতিতে মূল্য রিসেশনের দাবিটা যৌক্তিক। বিশেষ করে টেস্টের ক্ষেত্রে যেসব রিএজেন্ট ব্যবহার করা হয় সেগুলোর দামই বেড়েছে দেড় গুণ। সব কিছুরই দাম বেড়েছে। খালি স্বাস্থ্য খাতের সব আগের মত আছে। এখন স্টাফরা আন্দোলন করছে বেতন না বাড়ালে কাজ করবে না। আবার এই সুযোগে মূল্য রিসেশন করতে গিয়ে যাতে রোগীদের দুর্ভোগ না হয় সেটাও মাথায় রাখতে হবে।’
তবে এক্ষেত্রে সেবা গ্রাহকদের বক্তব্য খানিকটা ভিন্ন। মিশকাতুল মাকসুদ নামে একজন সিভয়েসকে বলেন, ‘এমনিতেই তো ল্যাবের রিপোর্টে ডাক্তাররা ২০-৩০ শতাংশ ছাড়ের সুপারিশ করেন। ল্যাবগুলো সেই ছাড়তো আর লস করে দেয় না। তো উনারা মূল্য না বাড়িয়ে ডিসকাউন্ট কমিয়ে দিলে তো হয়। অর্থাৎ ৭ শতাংশ দাম না বাড়িয়ে আপনি কমিশন দেয়ার পরিমাণ কমাই দেন। ঠিক করেন যে আগে সর্বোচ্চ যেখানে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দিতেন এখন সেখানে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ দিবেন।’