মহেশখালীতে একদিনেই পুকুরে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু

মহেশখালী প্রতিনিধি: মহেশখালীতে এক দিনে একই পুকুরে ডুবে পার্শ্ববর্তী দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। ঘঠনাটি ঘঠেছে মহেশখালী পৌরসভাস্থ ঘোনাপাড়া এলাকায়। জানা যায়, ২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল আনুমানিক ১১টায় মহেশখালী পৌরসভাস্থ পূর্ব ঘোড়াপাড়া এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনৈক মীর কাসেমের (বিক্রি করে দেওয়া) ভিটা বাড়ির পুকুরে ডুবে ২ বছর বয়সী এবং ৪ বছর বয়সী শিশু দুইটি মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহতদের পরিবারের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে আকাশ বাতাস। তাৎক্ষণিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে নিহত দুই শিশু অত্র এলাকার রিয়াজুল করিমের মেয়ে তাহলিছা (২) এবং শফি আলমের মেয়ে আলিফা (৪)। এবিষয়ে নিহত দুই শিশুর স্বজনদের কাছ হতে জানতে চাইলে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে তারা জানান, ২ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১ ঘঠিকার সময় প্রতিদিনের ন্যায় তাদের সন্তান তাহলিছা এবং আলিফা তাদের নিজেদের ভিটা বাড়িতে খেলা করছিলো। এক পর্যায়ে তারা অপরাপর শিশুদের সাথে তাদের পার্শ্ববর্তী অপর দুইটি বসত ভিটা অতিক্রম করে সবার অজান্তে জনৈক মীর কাসেমের বিক্রিত বসত ভিটায় অবস্থিত পুকুরের কাছে গোসল করতে নেমে যায়। সাঁতার না জানায় সেই পুকুরে ডুবেই তারা মৃত্যু বরণ করেন। এই ঘটনার বিষয়ে মহেশখালী পৌরসভার ০৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনজুর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান- ২রা ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে তাদের মায়েরা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শিশুরা বাড়ির পাশের উঠানে প্রতিদিনের ন্যায় খেলতে ছিলেন,পরে কাউকে না জানিয়ে মির কাশেমের পুকুরে গোসল করতে নেমে যায়। পরে বাড়িতে না আসায় খোঁজা শুরু করলে; এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সেই পুকুরে সিশু দুইটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে শোর চিৎকার দিলে লোকজন জড়ো হয়ে তাদের পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত মহেশখালী উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দুইটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার আসরের নামাজের পর পূর্ব ঘোনাপাড়া জামে মসজিদের মাট প্রাঙ্গনে নিহত দুই শিশুর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা হতে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয় বলে জানা যায়।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.