কালিয়াইশে-স্বামীকে হত্যার পরে বিধবা স্ত্রীকেও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ একই আসামীদের বিরুদ্ধে

সাতকানিয়া-ধারালো দা, ছুরি, লোহার রড দিয়ে মারধর

 

সাতকানিয়া প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে এক  বিধবা মহিলা ও তার ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে মারধরের অভিযোগ ওঠেছে কালিয়াইশ ৩নং ওয়ার্ড রসুলাবাদ এলাকার মোঃরবিউল আলম (৩০),আবদুল জাব্বার (৫৫), মোঃ সাজ্জাদ (২২), মোঃ খোরশেদ (৩৩) এর বিরুদ্ধে।

সাতকানিয়া থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ নভেম্বর সকালে কালিয়াইশ ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকার বাদী মোঃ আজগর আলীর মৌরশী জায়গায় এঘটনা ঘটে।

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয় রসুলাবাদ এলাকার যুবক আজগর আলীর মা গোলতাজ বেগম ও ছোট ভাই মোঃ হাছান নদীর চরে সবজি ক্ষেত ফল-ফলাধি তুলতে গেলে দেখতে পাই অভিযুক্তরা ফসল নষ্ট করে হেঁটে যাচ্ছে। এসময় বাধাঁ প্রদান করলে লোহার রড ও দা, ছুরি দিয়ে করে। এবং প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এবং বাদী মোঃআজগর আলী কে ও মারধর করে।

ভুক্তভোগী গোলতাজ বেগমের ছেলে মামলার বাদী আজগর আলী বলেন সামান্য ফসল নষ্ট করার বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা আমার মা আর ভাইও আমাকে কুপিয়ে আহত করেন,আমার মাকে স্থানীয়রা কাঁধে করে এনে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান আমার মার মাথায় ৭/৮সেলাই করা হলো।
শুধু তাই নয়-আমার ছোট ভাই মাকে বাঁচাতে গেলে তার হাতেও ধারালো দা দিয়ে কুপ দেয় রবিউলরা।

আমি এই বিষয়ে প্রশাসন থেকে সুষ্টু বিচার আশা করি।
তারা এই সম্পত্তির লোভে ২০১২সালে আমার বাবাকেও হত্যা করেন কিন্তু আমরা ছোট থাকায় মামলাও করতে পারিনি।
আর স্থানীয় প্রভাবশালী মহল তখন আমার মাকে মামলাও করতে দেয়নি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার জানান,হুম মারামারির বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে তবে পলাতক থাকায় কোন আসামীকে আমরা গ্রেফতার করতে পারিনি।

 

 

 

এদিকে সাতকানিয়া থানার ওসি তারেক হান্নান বলেন- ঘটনাটি সত্য মহিলাকে মারধরও তার ছেলেকেও জখম করা হলো আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলমান

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন মিঠু বলেন-হামলার ঘটনা সত্য তবে মামলা যেহেতু হয়েছে আমার কিছু বলার নেই,তারা তারা বাদী বিবাদী সমন্বয় করলে সেটা অন্য বিষয় এখানে আমার নির্দিষ্ট কিছু বলার নেই।তবে আজগরের মাকে ১০/১২সেলাই করা হয়েছে এবং তার ভাইকেও হামলা করা হয়েছে।

এদিকে আহত বিধবা গোলতাজ বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে গনমাধ্যমকে বলেন,ছেলেদের বাপকেও তারা ২০১২সালে হত্যা করে পরে তৎকালীন মেম্বার আর চেয়ারম্যানরা আমার অবস্থা বুঝে আর মামলা করতে দেয়নি।
আমি তখন থেকেই পিতা হারা ছেলে তিনজনকে নিয়ে পুরুষ মানুষের মত জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।

মূলত ছেলের বাপের মত তারা আমাকেও হত্যা করতে চায়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.