জামায়াতের ‘গুরু’ ইলিয়াস সিদ্দিকী প্রভাব খাটাতে চান চবির শিক্ষক নিয়োগে, আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিও হতে চান তিনি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০০৪ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদেশে ভাগ্য পরিবর্তন হয় ইলিয়াস সিদ্দিকী নামে জামায়াত নেতার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জামায়াতের আধ্যাত্মিক ‘গুরু’ খ্যাত ইলিয়াস সিদ্দিকী এখন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান।

জামায়াতের প্রতিষ্ঠিত এই নেতা আওয়ামী লীগ সেজে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার কারণে বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। সম্প্রতি হেফাজতের মামুনুল হকের অনুসারী এক নেতাকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন ইলিয়াস সিদ্দিকী।

তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্বলিত একটি চিঠিও এসেছে চট্টগ্রাম সংবাদের হাতে। যে চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপে চালাচালি হচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং, জামায়াত-শিবিরপন্থি শিক্ষকদের আধিপত্যসহ নানা কারণে বারবার পিছিয়েছে বিভাগটির প্রভাষক পদে নিয়োগের পরীক্ষা। এ নিয়ে মোট তিনবার বিভাগটির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পেছাতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস সিদ্দিকী। যার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। পদাধিকারবলে তিনি প্রভাষক পদে নিয়োগে গঠিত বোর্ডের সদস্য হওয়ায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষাটি তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই তিনি নিতে চান।

অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতে ইসলামের বহিস্কৃত নেতা মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠ এক অনুসারীকে নিয়োগ দিতে নানাভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে দেন। গত চার মাসে তিনবার এ নিয়োগ পরীক্ষা পিছিয়েছে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর আবারও নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে ১৫ নভেম্বর, ২১ ও ২২ ননভেম্বর তিন দফা বোর্ড আহবান করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে ইলিয়াস সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নানা তথ্য সম্বলিত উড়ো চিঠিও বের হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি করে চাঞ্চল্য। এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সুপারিশে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইলিয়াস সিদ্দিকীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিতে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর নুরুদ্দিন চৌধুরীকে নির্দেশ দেন।

কলা অনুষদের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভিযোগ, ইলিয়াস সিদ্দিকীর নাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের নিয়োগ কেলেংকারীর অডিও রেকর্ডে উঠে এসেছে৷ জামায়াতপন্থি শিক্ষক হয়ে বিভাগে ‘ছড়ি ঘুরানোর’ সুযোগ পেয়ে তিনি এখন তাঁর দলীয় আদর্শের প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবেও নিয়োগ দিতে চান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে বিএনপি-জামায়াতের মনোনীত উপাচার্য প্রফেসর নুরুদ্দিন চৌধুরীর বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে ২০০৪ সালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে যোগদান করা শিক্ষক ইলিয়াস সিদ্দিকী ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের প্রার্থী। বাংলাদেশের প্রায় ১৭০০ ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকের উপাচার্য হওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের অনেকে।

তাদের প্রশ্ন, সরকার ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করেছে ইসলামী উচ্চশিক্ষা প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে। বিএনপি-জামায়াতের হাতে এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ভার দেওয়া কি আত্মঘাতী হবে না? মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালনকারী অসংখ্য আলেম-ওলামা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রয়েছে। তাদের হাতেই যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে।

এসব বিষয়ে চবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ইলিয়াস সিদ্দিকীকে মুঠোফোনে ইলিয়াস সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্ধারণ করেন। বিভিন্ন কারণে পরীক্ষা পিছিয়েছে প্রশাসন। ফার্সি বিভাগের নিয়োগ সংক্রান্ত অডিও ফাঁসের বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে রিউমার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সেখানে আমার কোন কণ্ঠ নাই। আমি কোনো কথা বলিনি। একটি পক্ষ আমাকে বিব্রত করতেই নানা কৌশলে প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.