পটিয়ায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ

১ কোটি টাকা চাঁদা দাবী

পটিয়া প্রতিনিধি:

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য নিজের জমি বিক্রি করতে চান একজন প্রবীণ নারী চিকিৎসক। কিন্তু তাকে জমি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাসান উল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা শরীফ (৬৬) চট্টগ্রামের পটিয়ার খরনা ইউনিয়নের প্রয়াত ডা. এস এম কামাল উদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে। তাঁর স্বামী শরীফুল হকও একজন চিকিৎসক।
অন্যদিকে অভিযুক্ত হাসান উল্লাহ চৌধুরী সম্পর্কে ভুক্তভোগী চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা শরীফের একজন অস্থায়ী ভাড়াটিয়া বলে সাংবাদিদের জানিয়েছেন তিনি।
এব্যাপারে ডাক্তার কানিজ ফাতেমা শরীফ মঙলবার দুপুরে পটিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন করেন। উক্ত সংবাদ সন্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমি পেশায় ডাক্তার হলেও বর্তমানে ক্যান্সার রোগী। ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল বিধায় বাধ্য হয়ে আমাকে পটিয়ায় থাকা নিজের জমি বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু আমাকে জমি বিক্রি করতে দিচ্ছেন না পটিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক হাসান উল্লাহ চৌধুরী, জাগির হোসেন, হাবিবুল্লাহ বুলবুল সহ তার সহযোগি আরও ১৫-২০ জন। তারাো রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করতে বাধা দিচ্ছেন। তারা জোরপূর্বক আমার সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরো বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা ৩৯ মিনিটে আমাকে ফোন করে জোরপূর্বক জমি ও চাঁদা দাবি করেন হাসান। না দিলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদানসহ অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। উক্ত বিষয়ে আমি নিরূপায় হয়ে গত রোববার ঢাকার খিলগাঁও থানায় জিডি করি। এ অবস্থায় আমি ও আমার পরিবার ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বলে জানান উপস্থিত সাংবাদিকদের ডা. কানিজ ফাতেমা শরীফ।
ডাক্তার কানিজ ফাতেমা বলেন, বিগত দেড় বছর পূর্বে আমি হাসান উল্লাহকে মৌখিক ভাবে আমার জায়গার উপর নির্মিত গুলশান মেহেরীন নামক একটি রেস্টুরেন্ট ভাড়ায় লাগিয়ত করি। গত কয়েক মাস ধরে ভাড়াও বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। আমরা বিশেষ সূত্রে জানতে পারলাম পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ’মি) অফিস কতৃক আমার নামে নামজারি খতিয়ানটি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাতিল করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ খবর পেয়ে আমি মঙ্গলবার সকালে হাজির হলে সহকারী কমিশনার (ভুমি) বিষয়টি শুনানী স্বাপেক্ষে নিষ্পত্তির আশ্বাস প্রদান করেন। আমি ভূমি অফিস হতে বের হওয়ার সময় হাসান উল্লাহ বাইরে এসে আমাকে বলেন অর্ধেক দামে তার কাছে জায়গাটি বিক্রি করতে হবে নইলে ১ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে। এব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বা¯হমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক, প্রশাসন ও সাংবাদিক সগ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
গংবাদ সন্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্বামী ডাক্তার শরীফুল হক, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য আবু ছালেহ শাহরিয়ার শাহরু, আবসার উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, আবু তাহের ও নোমান চৌধুরী প্রমুখ।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.