বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণের মামলায় ৮ আসামিকে অব্যাহতি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ মে) মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলেও জানাজানি হয়েছে শুক্রবার সকালে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে কনটেইনার ডিপোর ৮ কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন— প্রতিষ্ঠানটির উপ মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) নুরুল আক্তার; ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) খালেদুর রহমান; সহকারী প্রশাসন কর্মকর্তা আব্বাস উল্লাহ; সিনিয়র নির্বাহী (প্রশাসন ও অভিযোগ) মো. নাসির উদ্দিন; সহকারী ব্যবস্থাপক (অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো) মো. আব্দুল আজিজ; ইনচার্জ (কন্টেইনার মালবাহী স্টেশন) সাইদুল ইসলাম; কনটেইনার ও মালবাহী স্টেশনের নজরুল ইসলাম এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) নাজমুল আক্তার খান।

পুলিশ বলছে— অভিযুক্তরা ঘটনার জন্য দায়ী নয় বা বিস্ফোরণটি কোনো নাশকতা নয়। এটি একটি ‘মিস্টেক অব ফ্যাক্ট’।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ বলেন, পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, এটি একটি ‘মিস্টেক অব ফ্যাক্ট’ বলে বলা হয়েছে। ঘটনার জন্য ৮ জন কর্মকর্তার দায়িত্বেও কোনো অবহেলা ছিল না। এটা একটা দুর্ঘটনা।

২০২২ সালের ৮ জুন ফৌজদারি কার্যবিধিতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন সীতকুন্ড থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ সিদ্দিক। দায়িত্বে সম্পূর্ণ অবহেলায় বিস্ফোরণের সূত্রপাত বলে মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়।

মামলার বিবৃতিতে পুলিশ উল্লেখ করেছে, অভিযুক্তরা প্রয়োজনীয় এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নিয়ে ডিপোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণ করেছিল। এতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের কারণে মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের অবহেলায় জানমাল ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পর চট্টগ্রামের বিভাগীয় অফিসের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি ৩০০ পৃষ্ঠা সংযুক্ত করে তাদের ১৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ২০টি সুপারিশ করেছিল। তদন্ত কমিটি সরকারের বিভিন্ন পক্ষের অবহেলা এবং মালিকপক্ষের অবহেলাকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছিল।

ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ আটটি বিভাগে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।

তদন্ত কমিটি প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে ডিসিআইও (ডিজি কার্গো ইন্সপেকশন অফিস) পুনার্গ করার প্রস্তাব করেছে এবং এনওসি ইস্যু করার আগে মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন করতে বলেছে।

এ ছাড়া পণ্য মোড়ক ও পরিবহনের সময় রপ্তানিকারক কর্তৃক প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ, চট্টগ্রাম বন্দরের অফ-ডক অন্তর্ভুক্ত করা এবং মনিটরিং কমিটির নিয়মিত সভা করা করা ও আইএমডিজি কোড অনুসরণ করে অগ্নিনির্বাপকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করার কথা বলেছে।

বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বিএম ডিপো কন্টেইনার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি নোটিশ পাঠায়।

 

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.