চেক পাশ না করায় ব্যবসায়ীকে মারধর করে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ

সাতকানিয়ায় জমিসংক্রান্ত লেনদেনের চেক সময়মতো পাশ না হওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কেরানীহাটের ঢেমশা রোডে জসিমের দোকানে এই ঘটনা ঘটে। এতে ওই দোকানের মালিক জসিমও আহত হন।

জসিম উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

জানা গেছে, জসিমের শ্বশুরবাড়ি উপজেলার এওচিয়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছড়ারকুলে। গত ২বছর আগে কেরানীহাটের তিনি তার জেঠাত শ্যালক জাকের আহমদের কাছ থেকে কেরানীহাট এলাকায় একটি জমি কেনার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা নেন। এরমধ্যে নগদে ৬ লাখ টাকা, আর ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা। কিন্তু তার শ্যালক জাকেরের স্ত্রীর জায়গাটি পছন্দ হয়নি। এরপরও জমি আজ রেজিস্ট্রি দিবে কাল দিবে বলে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। জাকেরের স্ত্রী টাকা ফেরত চাইলে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসেও থানা পর্যন্ত গড়ায়। টাকা আদায়ের জন্য জসিমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন জাকেরের স্ত্রী জান্নাতুল। ওইসব অভিযোগ সমাধান করতে বেশ কয়েকবার বৈঠকও করেন সাতকানিয়া থানার সাবেক ওসি তদন্ত শফিকুল ইসলাম।
পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তৎকালীন ওসি তদন্ত শফিকের মধ্যস্ততায় জসিম ১৫ লাখ টাকার চেক ও ষ্ট্যাম্প দিয়ে প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা পাশ করার শর্তে বিষয়টি মীমাংসা হয়। শর্ত মোতাবেক ৮ মাসে ৮ লাখ টাকা পরিশোধও হয়। কিন্তু বাকি ৭ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ টাকার চেক পাশ করাতেই বিপত্তি বেধে যায়। নির্ধারিত দিনে চেক পাশ না হলে ব্যবসায়ী জসিম আর ফোন ধরছিলেন এমন অভিযোগ তাদের।

জান্নাতুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফোন করে, তার শরণাপন্ন হয়েও পাওনা টাকার কোন সুরাহা হয়নি। পরে আমার আত্বীয় সাতকানিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমুকে নিয়ে কিছুদিন আগে আমি আমার ননদের জামাই জসিমের দোকানে যাই। পরে আমার ননদের জামাই জসিমের দোকানে থাকা কর্মচারীরা আমার চোখের সামনেই বেধড়ক পিটিয়েছে আমার আত্বীয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমুকে। এই ঘটনায় ইমু বাদী হয়ে জসিমদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সাতকানিয়া থানা পুলিশকে দায়িত্ব দিলে থানা পুলিশ এখনো তদন্তের কাজ শেষ করতে পারেনি।

এদিকে আমার ননদ জামাই জসিম আমাকে কেরানীহাটের হাসমতের দোকান এলাকায় টাকা দিবে বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে কিছু আত্বীয় স্বজনকে আমার ননদের জামাই জসিম সওদাগরকে ডেকে পাঠালে ওখানেই তারা আমার পাঠানো আত্বীয়দের উপর হামলে পড়ে। পরে তার দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজের পুরো ফুটেজ ভাইরাল না করে ইচ্ছেমত দায়সারা ফুটেজ ভাইরাল করে আমার বৈধ লেনদেনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। আমার বিরুদ্ধেসহ আমার স্বামীকেও কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি এবং অপহরণ মামলা সাজাতে চাইছে।

এদিকে আজ ১৬ই মে(মঙ্গলবার) সকালে কেরানীহাটস্থ ঢেমশা রোডেট টাইলসের দোকানটিতে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৭/৮জন যুবক হঠাৎ দোকানে প্রবেশ করে জসিম সওদাগরকে বেধড়ক মারধর ও কিছু জিনিস ভাংচুর করছে। তবে টাইলসের দোকান কর্তৃক সংরক্ষিত সিসিটিভির ফুটেজের কোথাও মালামাল বা টাকা পয়সা ভাংচুর ও যুবকরা দোকানের ক্যাশে যে হামলা করেছে তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দোকানে কর্মরত থাকা যুবকরা এই প্রতিবেদককে মঙ্গলবার দুপুরে জানিয়েছেন ঘটনায় আহত সওদাগর জসিম বর্তমানে বাসায় বিশ্রামে আছেন। গতকালসাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ীর ভাইয়েরা থানায় মামলা করতে গেছেন বলে জানিয়েছেন।

উপস্থিত কর্মচারীরা আরও জানান, ব্যাপক মারধরের পর আমাদের মামা জসিম সওদাগরকে ছদাহার নির্জন পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওখানে নিয়ে ষ্ট্যাম্প নেয়া হয়েছে। সাতকানিয়া থানার দ্রুত অ্যাকশনের কারণে আমার মামাকে তারা ২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা করতে যাওয়া জসিমের স্ত্রী বড় ভাই নাছির ও জসিমের অপরাপর ভাইসহ অন্যান্যরা জানান, ছদাহার নির্জন পাহাড়ে গুম করতে অপহরণকারীরা নিয়ে যায়। শুধুমাত্র চাঁদার জন্য।
তবে নাছিরসহ অন্যান্যদের একজন মহিলার টাকা সংক্রান্ত ও জমিজমা সংক্রান্ত কোন পূর্ব বিরোধ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে জানেন না বলে জানান।

এদিকে কেরানীহাট এলাকার কিছু বাসিন্দা জানান, রাতেই মুহূর্তের মধ্যে ভাংচুর ও মারধরের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আমরা সত্যি সত্যি মনে করছি ঘটনাটি আসলেই অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা কারণ কয়েকদিন আগেও সিএনজির টোকেন বানিজ্য নিয়ে কেরানীহাট উত্তপ্ত ছিলো।

ঘটনার বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত বলেন, কেরানীহাট এলাকায় জমি কেনা বাবদ তারা আত্মীয়স্বজনদের ভেতর ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে সেটা সত্য আমি অবগত আছি।এই ঘটনায় ইমু নামে এক ছাত্রলীগের নেতাকেও মারধর করা হয়েছে সেটার জেরে আদালতে একটি মামলা হয়েছে সব ঠিক, তবে মহিলার টাকা আদায়ের বিঘ্ন ঘটলে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারত কোন অবস্থাতেই দোকানে গিয়ে ভাংচুরও মারধর এটা আইনের পর্যায়ে পড়েনা।

এদিকে সাতকানিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমু বলেন, আমার আন্টি হচ্ছে জান্নাতুল। আমার আন্টির সাথে চেক নিয়ে কথা বলতে দোকানে গেলে জসিম পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমাকে সবার সম্মুখে প্রকাশ্যে মারধর করেন।এই ঘটনায় আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সাতকানিয়া থানা পুলিশকে তদন্তভার দেন। কিন্তু গতকালকেও আমি আমার আন্টির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে জসিমরা পূর্বের মত আমাদের উপর চড়াও হয় এবং পরিকল্পিত ভাবে আমাদের উপর হামলা করে সেই ফুটেজ ভাইরাল করেনি। তার স্বার্থসিদ্ধি হতে যতটুকু ফুটেজ ভাইরাল হওয়া দরকার সে ততটুকুই করেছে।

এখানে চাঁদাবাজি কিংবা অপহরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। লেনদেনের বিষয়ে ঝগড়াঝাটি হলেই কি চাঁদাদাবি, অপহরণকারী হয়ে যাবে? প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.