আ ন ম সেলিম,পটিয়া (চট্টগ্রাম)
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ মহাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগকে দেশীয় রাজনীতির ষড়যন্ত্র যেমনভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তেমনিভাবে বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বিবেচনায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে বিচক্ষণ সিদ্ধান্তও গ্রহণ করতে হয়।
নির্বাচন সামনে এলেই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দলের খবর রাজনীতিতে চাউর হয়। আওয়ামী লীগও এর বাইরে নয়।
২০০৮ সাল থেকে টানা ৩ বার আওয়ামী লীগ রাস্ট্রীয় ক্ষমতায়। সামশুল হক চৌধুরী এক সময় যুবদল পরে জাতীয় পার্টির হয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। পটিয়া থেকে মনোনয়ন ভাগিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের জোয়ারের সময় সহজেই এমপি হয়ে যান এই ডিগবাজ নেতা।
গত ১৫ বছর সামশুল হক চৌধুরী নিজে এমপি ও পরবর্তীতে হুইপ হয়ে নিজের আঁখের ঘুছিয়েছেন। আত্বীয়স্বজন ও বিএনপি জামায়াত জাতীয় পার্টি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের দলে সুযোগ সুবিধা দিয়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলে কোণঠাসা করে রেখেছেন। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বসন্তের কোকিলদের নেতা বানিয়ে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। দলে পোড় খাওয়া নেতৃবৃন্দের সংখ্যা অগণিত, যারা বিভিন্ন সংগ্রামে, আন্দোলনে দলের নেতৃত্বের অংশ হয়ে ভুক্তভোগী হয়েছেন, নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন সামশুল হক। দেশবিদেশে পটিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
তাই এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দক্ষিণ চট্টগ্রামে একমাত্র তাকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম -১২ (পটিয়া) আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে।
যারা প্রকৃত অর্থে আওয়ামী রাজনীতির গতি-প্রকৃতি সম্বন্ধে অবগত কিংবা হাঁড়ির খবর রাখেন তারা অবশ্য জানেন প্রার্থী পরিবর্তনের ভেতরকার গল্প। মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও ত্যাগ রয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলের কর্মীরা তাঁর জন্য দলীয়ভাবে কাজ করে নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনবেন। এ জায়গাতেই আওয়ামী লীগ অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে ব্যতিক্রম।
হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি গত দেড় মাস আগেও বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেছেন দল যাকে নৌকা প্রতীক দেবেন তিনি তার পক্ষে কাজ করবেন। এতকিছুর পরও তিনি মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সমগ্র পটিয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর উপর চরম ক্ষুব্দ।
তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ছেন।
অনেকটা পুলিশ প্রহরায় নির্বাচন করতে হচ্ছে সামশুল হক চৌধুরীকে। ইতিমধ্যে কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা,দক্ষিণ ভূর্ষি,কচুয়াই,কেলিশহর সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে গণসংযোগ করতে গেলে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন সামশুল হক চৌধুরী ও পুত্র সারুন চৌধুরী সহ পরিবারের সদস্যরা।
এবার পটিয়ায় নৌকার পক্ষে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ,কৃষক লীগ, শ্রমিকলীগ,মহিলা আওয়ামী লীগ। নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সাংসদ ও বাংলাদেশ মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আইয়ুব আলী,উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সামশুদ্দিন আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু তৈয়ব, সিরাজুল ইসলাম মাষ্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান তিমির বরন চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক,সদস্য রাশেদ মনোয়ার,সদস্য নাছির উদ্দীন, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, পটিয়া পৌরসভার মেয়র মোঃ আইয়ুব বাবুল, পটিয়া পৌরসভার সভাপতি আলমগীর আলম, সাধারণ সম্পাদক এম এন এ নাছির,পটিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর নাহার করিম, সাধারণ সম্পাদক সাজেদা বেগম,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাসান উল্লাহ চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক ইমরান উদ্দিন বশির,মাষ্টার রিটন নাথ,পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি নুর আলম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ। নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে দিন-রাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পটিয়ায় সংখ্যালঘু সহ আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জায়গায় দলীয় সমাবেশে উল্লেখ করেছেন ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। তিনি তাঁর বক্তব্যে দলীয় ঐক্যের কথা বারবার তুলে ধরেছেন। দলীয় ঐক্যের কাছে অপশক্তি, ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে বারবার।
পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলার সদস্য নাছির উদ্দীন বলেন,
ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। দলীয় ঐক্যের কাছে অপশক্তি, ষড়যন্ত্র ও কালো টাকা পরাজিত হয়েছে বারবার। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটবেনা।
আওয়ামী লীগের শক্তি জনগণের ভালোবাসা এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য। উন্নয়ন ও সুশাসনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছে। তাই মানুষ নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পটিয়ার আওয়ামী লীগ অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মত প্রার্থক্য ভুলে সবাই এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করছে। পটিয়ার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এখানকার জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে পটিয়ার আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনে জয় লাভের ব্যাপারে সকলে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে ইনশাল্লাহ নৌকার প্রার্থী বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে।
ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগই হল নৌকা মার্কার প্রার্থীর মূল শক্তি। দুর্নীতিবাজ খারাপ লোকদের কোন ভাবেই আর সংসদ সদস্য বানানো যাবে না