অনুমোদনহীন জায়গায় স্কীম:মোটা টাকার ভাগ যাচ্ছে বিএডিসির উপ-সহকারী ও পিডিবির অফিসে

সাতকানিয়া প্রতিনিধি 
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় তেমুহনী নয়াখাল এলাকায় অনুমোদনহীন জায়গায় স্কীম বসিয়ে মোটা দাগের টাকা কামাচ্ছে সাতকানিয়া উপজেলা বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো:ইকবাল হোসেন এবং ওই টাকার সিংহভাগ যাচ্ছে পিডিবি দোহাজারী (বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র)এর মাধ্যম পটিয়া বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে।
জানা যায়, সাতকানিয়া তেমুহনী এলাকার পাঠানী পুলে কৃষি কাজের জন্য সাতকানিয়া উপজেলা বিএডিসি অফিস একটি স্কীম অনুমোদনের জন্য প্রত্যায়ন দেন স্থানীয় বেলাল নামে এক ব্যক্তিকে।
এবং ওই প্রত্যায়ন দেয়ার সময় বিধি মোতাবেক সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রত্যায়নে সরকার নির্ধারিত স্কীম রেটে পিডিবি(বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র) কে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
কিন্তু সরেজমিনে এবং ইস্যুকরা প্রত্যায়ন পত্রে নির্ধারিত এলাকা দেখানো হয়েছে কৃষিকাজের জন্য পাঠানীপুল এলাকায়, কিন্তু এখানে ইস্যুকৃত স্কীম বসানো হয়েছে একটি ইটভাটার পাশে -ইট ভাটার জন্য মাটি কেটে বড় বড় যে  পুকুর সমেত লেক গুলো হয়েছে  ওই লেক গুলোতেই স্কীম বসিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছে।
এবং পানি গুলো কোন কাজে ব্যবহার না করে পাশের গড়াঁল খাল নামক খালে ফেলে দেয়া হচ্ছে।
বানিজ্যিক এলাকায় কৃষকদের সুবিধার রেটেই  স্কীম রেট ধরা হয়েছে উল্লেখিত ইস্যুকৃত প্রত্যায়ন পত্রে।
অথচ ওটা স্কীম রেট ধরা হবে বানিজ্য দামের  অধীন,যেহেতু ওই স্কীম কৃষির বদলে উল্টো  শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫টি মেশিন চলমান ১টি মিটার দিয়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫টি মোটরে ৫টি মিটার দিয়ে স্কীম পরিচালনার কথা থাকলেও একটি মিটার দিয়ে ৫টি বড় বড় মেশিন চালার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রাতের বেলা মিটার থেকে কানেকশন দেয়া হয়না মোটরে ওটা ডিরেক্ট লাইন থেকেই দেয়া হয়।
এবং দিনের বেলা মিটারের কানেকশন থেকেই পানি সেচ করা হয়।
রাতে ডিরেক্ট লাইন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অলিখিত চুক্তি আছে দোহাজারী পিডিবি বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র  অফিসের সাথে।
এবং কৃষি কাজে ব্যবহার না করে বানিজ্যিক এলাকায় কৃষকদের রেট এ স্কীম প্রত্যায়ন  পত্র প্রদান করে সরেজমিনে সার্টিফিকেট প্রদান করার জন্য আলাদা মোটা দাগে আর্থিক সুবিধা নেয় সাতকানিয়া বিএডিসির  উপ প্রকৌশলী মো:ইকবাল হোসেন।
অনুমোদনহীন জায়গায় এই একটি স্কীম বসাতে বানিজ্যিক রেটএ না ধরার জন্য এবং ৫টি মিটার না দিয়ে ১টি মোটর থেকে ৫টি বড় মেশিন চালার জন্য এবং মিটার ইউনিট কম ওঠার জন্য রাতে ডিরেক্ট লাইন থেকে কানেকশন দেয়ার জন্য দোহাজারী পিডিবির অফিসকে ম্যানেজ করার পর -আবার দোহাজারী পিডিবি বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ম্যানেজ হয়েছে পটিয়া পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী  রেজাউল নবি বৃত্ত।
এদিকে এক জায়গার কথা বলে অনুমোদন নিয়ে অনুমোদনহীন অন্য জায়গায় বানিজ্যিক হিসেবে স্কীম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় বিএডিসির উপ-সহকারী মো: ইকবাল হোসেন ও দোহাজারী পিডিবি বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান এবং পটিয়া পিডিবি অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী  রেজাউল নবি বৃত্ত এর বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে এই বিষয়ে পটিয়া অফিসের বিক্রয়ও বিতরন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল নবি বৃত্ত বলেন – বিএডিসির সাবস্টেশন ইন্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন যে মোতাবেক প্রত্যায়ন দিয়ে দাম ও লোকেশন নির্ধারণ করেছেন আমরা ওই মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছি,এখানে আপনি বাকিটা বিএডিসি অফিসারে সাথে কথা বলেন।
তখন প্রতিবেদক নির্বাহী প্রকৌশলী   রেজাউল নবি বৃত্তকে  পাল্টা প্রশ্ন করেন, কৃষিকাজের স্কীম রেট কি বানিজ্যিক কাজেও একই দাম হলে এক্ষেত্রে পিডিবি অফিসের তদারকি করার বিষয় আছে কিনা?
এবং প্রত্যায়ন পত্রে উল্লেখিত নির্ধারিত জায়গার বাইরে গিয়ে অনুমোদনহীন এলাকায় দোহাজারী পিডিবি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বললেও তার কথা জবাবে অনেকটা অবৈধ স্কীম প্রকল্প থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়টা স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে যদিওবা ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন।
একই বিষয়ে বানিজ্যিক এলাকায় নির্ধারিত রেট এ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দোহাজারী পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আরই রুকুনুজ্জামান।
তিনি প্রত্যায়ন পত্রের দোহায় দিয়ে বিএডিসি অফিস  ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কথা উল্লেখ করে একবার লাইন বিচ্ছিন্নও করেছেন বলে জানান।
তবে দোহাজারীর আবাসিক প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান প্রত্যায়নে উল্লেখিত লোকেশন জালিয়াতি করে পরে  অনুমোদনহীন স্পটে স্কীম বসানোর বিষয়ে প্রতিবেদককে কিছু বলতে রাজি হয়নি এবং একই বিষয়ে উপজেলায় যোগাযোগ করতে পরামর্শ প্রদান করেন।
প্রতিবেদক পিডিবি অফিস কর্তৃক স্কীম বসানোর লোকেশন জালিয়াতির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই আবাসিক প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান থেকে প্রত্যায়নের অফিস কপি দেখার কথা বললে তিনি অফিসের জরুরি ডকুমেন্টস দেখাতে পারবেননা বলে সাফ জানিয়ে দেন।
অপরদিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে  স্কীম বসিয়ে বানিজ্যিক কাজে ব্যবহারকারী বেলালকে কল করা হলে তিনি -লোকেশন জালিয়াতি করে অপর আরেকটি জায়গায় মিটার বসিয়ে পানি সেচ করার কথা বললেও মাটি কাটার জন্যই যে বড় বড় লেক সেচ করা হচ্ছে সেটা এড়িয়ে গিয়ে মাছ ধরার জন্য পানি শুকানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদককে জানান।
তখন প্রতিবেদক পাল্টা প্রশ্ন করেন ৪/৫দিন ধরে স্কীম বসিয়ে বড় বড় লেক/পুকুর থেকে পানি শুকিয়ে ফেলতেছেন এবং আরো ১৫দিন লাগবে পানি সেচ করতে আপনি ওখানে কতটাকার মাছ পাবেন?
এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্যই হেসে দিয়ে ভেতরের মূল কাহিনী স্বীকার করেছেন।
এদিকে কালিয়াইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদ অবৈধ কার্যক্রমে অবৈধ ভাবে বিএডিসির উপ-সহকারী ইকবাল হোসেনকে ম্যানেজ করে অনুমোদনহীন জায়গায় স্কীম বসিয়ে মোটা দাগের বানিজ্য করার প্রতিবাদে পিডিবির বিভিন্ন দফতরে পরিষদ থেকে ইস্যু করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এবং ওই চিঠির প্রেক্ষিতে দোহাজারী পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী রুকুনুজ্জানও একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছেন যার প্রতিটি কপি প্রতিবেদকের হাতে জমা আছে।
এদিকে স্কীম যারা নিয়েছেন তাদের সাথে প্রতিবেদক বিভিন্ন সময় সুকৌশলে কথাবার্তা বলে বিভিন্ন দফতরে কি পরিমাণ টাকার বিনিময়ে এই অবৈধ স্কীম বানিজ্য করেছেন তার একাধিক তথ্য সংগ্রহও করেছেন।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.