চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক: বিশেষ টোকেনে নিষিদ্ধ যান রাস্তায়,তবে জানেননা হাইওয়ে ওসি

গুঞ্জন আছে মাসিক মাসোহারায় চলে নিষিদ্ধ যান-

সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে 
 মহাসড়কে  তিন চাকার (ত্রি-হুইলার) যানবাহন চলাচলে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় প্রতিনিয়ত এসব গাড়ির দেখা মিলছে।
 এতে ঘটছে নিয়মিত দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং অদক্ষ চালকের কারণেই সড়কে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে, মহাসড়ক হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ।নিয়মিত দোহাজারি হাইওয়ে পুলিশ ডিউটি করতে দেখা গেলেও তাদের চোঁখের সামনে দিয়ে চলাচল করে এই নিষিদ্ধ পরিবহন গুলো।
দেশে চলমান শীতের প্রভাবের ফলে ঘন কুয়াশার ভিতরে বড় আকৃতির গাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা। হাইওয়ে সড়কে পুলিশ অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও তিনচাকার যানবাহন গুলো পুলিশের সামনে গিয়ে অবাধে চলাচল করছে।
তবে পুলিশ বলছে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে, তবুও পরিমানে অসংখ্য হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
আবার সাংবাদিক এবং বিশেষ কিছু অসাধু মহলের টোকেনে সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে বলে জানা যায়।
সাতকানিয়া সদর থেকে কেরানীহাট, আমিরাবাদ থেকে কেরানীহাট,পদুয়া থেকে কেরানীহাট, বাজালিয়া থেকে কেরানীহাট, বাশঁখালী গুনাগরি থেকে কেরানীহাট চলাচল করে তিন চাকার গাড়িগুলো। দেখা মিললো দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবোঝাই ভারী যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমানে চলছে তিন চাকার যানবাহন। বিশেষ করে ইজিবাইক-টমটম, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্র।
তবে সিএনজি চালক’রা বলছেন,  মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি নিষিদ্ধ তারা জানেন,কিন্তু বিকল্প সড়ক না থাকা আর যাত্রী সুবিধার জন্য মহাসড়ক তারা ব্যবহার করেন। চালক’রা বলছেন,  আমরা জীবনের তগিদে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালায়। হাইওয়ে পুলিশ সিএনজি আটক করলে সহজে ছাড়ে না।
সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশের মহাসড়কে সাধারণত তিন চাকার যানবাহন যেমন, অটো রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইত্যাদি চলাচল নিষিদ্ধ। মহাসড়কগুলি দ্রুতগতি এবং বড় বড় যানবাহন চলাচলের জন্য তৈরি, এবং তিন চাকার যানবাহন সেগুলির গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না, যা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ায়।
 এছাড়া তিন চাকার যানবাহন দ্রুতগতির যানবাহনগুলোর গতির সাথে অমিল সৃষ্টি করতে পারে এবং মহাসড়কে যানজট তৈরি হতে পারে।অন্যদিকে  দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের আহত হওয়ার পাশাপাশি যানবাহনের মালিককেও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারে। তবে, কিছু বিশেষ এলাকায় বা শর্তসাপেক্ষে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিতে পারে, তবে সাধারণ নিয়মে
মহাসড়কে এসব যানবাহন চলতে পারে না।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত তিন চাকার যানের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি। ড্রাইবার এবং শ্রমিক নেতাদের সাথে মতবিনিময় করছি এবং তিন চাকার যান মহাসড়কে নিষিদ্ধ সেটা প্রতিনিয়ত অবগত করছি।
 এছাড়া আমরা সড়কের জন্য ঝুঁকি এমন কোন যানবাহন চলতে দিব না যেটা চালক এবং যাত্রীর জন্য অনিরাপদ। যেহেতু তিন চাকা (ত্রি-হুইলার) পরিবহন মহাসড়কে নিষিদ্ধ সেহেতু যাত্রীদের উচিত তিন চাকার পরিবহন গুলোতে যাতায়ত না করা।জনগন সচেতন হলে তারা নিজেদের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারবে।মহাসড়কের নিরাপত্তায় আমরা সবসময় তৎপর।টোকেনের বিষয়ে আমার জানা নাই, তবে এরকম কিছু পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমরা বিশেষ টোকেনে মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রী হুইলার চলাচল করতে দিচ্ছি সেটার প্রমাণ কেউ করতে পারবেনা।
এদিকে বর্তমান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সালাউদদীন চৌধুরী আসার পরে টোকেন বানিজ্য করার জন্য অর্থাৎ নতুন করে লাইনে আনার জন্য বেশকিছু দালাল চক্র দোহাজারী হাইওয়ে থানা যাতায়াত করে যাচ্ছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.