উখিয়া রেঞ্জ :পাহাড় বাঁচাতে ৭০টি বন মামলা, ৮০টিরও বেশী অভিযান,ক্ষিপ্ত হয়ে রেঞ্জারকে হুমকি
কক্সবাজারে বন বিভাগ দক্ষিণের রেঞ্জ কর্মকর্তা মান্নান-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কয়েক বছর আগে উখিয়া রেঞ্জে বনকর্মী সাজ্জাদকে হত্যার ঘটনার পর এবার উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জ অফিসের এই কর্মকর্তাকে টেলিফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নুর মোহাম্মদ তাকে রেঞ্জ থেকে সরিয়ে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে জানান বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।
কয়েক বছর আগে বনকর্মী সাজ্জাদকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার কারণে তার জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। এসব অভিযানের সময় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নুর মোহাম্মদ তাকে কাজে বাধা প্রদান করেন। গত বছরের ২৪ নভেম্বর উখিয়া সদর বিটে অভিযান চলাকালে বাধা দেন নুর মোহাম্মদ। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তিনি পালিয়ে গেলে তার সহযোগী হাবিবুল্লাহর ছেলে রাসেলকে আটক করা হয়।’
অভিযানে বাধা প্রদান ও বনের জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে বন আইনে নিজে বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং ৫৩/২০২৫–২০২৬)।
মামলার আসামিরা হলেন—রাজাপালং ইউনিয়নের রাসেল (২৩), একই ইউনিয়নের মুবিন উল্লাহর ছেলে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নুর মোহাম্মদ (৩৪), পালংখালী ইউনিয়নের আব্দুল মাবুদের ছেলে মফিজ উদ্দিন এবং রাজাপালং ইউনিয়নের আব্দুল বারীর ছেলে ছৈয়দ আলম।
বিট কর্মকর্তা আরও জানান, বনের জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কারণে নুর মোহাম্মদ বিভিন্ন উপায়ে তাকে হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৮ জুন থেকে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মোট ৮৫টি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ সময় ৭০টি বন মামলা দায়ের করা হয়েছে, অবৈধ মাটি কাটার দায়ে চারটি ডাম্পার ও অবৈধ কাঠ পাচারের সময় দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ৪০টির বেশি বনভিত্তিক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বন এলাকায় থাকা ১ হাজার ৫৫০টি অবৈধ বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৬, ১৩ ও ১৯-এ প্রায় ১ হাজার ৫০টি অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে একটি চক্র তাকে এখান থেকে সরানোর চেষ্টা করছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনের জমি উদ্ধার করতে গিয়ে আব্দুল মান্নান আগেও নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন। বর্তমানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রস্তাব দেওয়ায় বেশকিছু প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই নুরের সাংবাদিকতার আঁড়ালে একটি রোহিঙ্গা ক্যাডারবাহিনী রয়েছে, যেটা দিয়ে বনবিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে জিম্মি রাখার চেষ্টা চালায়।
এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তাকে গ্রেফতার না করায় আতংকে আছে পুরো উখিয়া।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যারা বনের জমি অবৈধভাবে দখল করবে তাদের বিরুদ্ধে বনবিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বনকর্মীদের হুমকি দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ ও দক্ষিণ বনবিভাগের বিভিন্ন সূত্র চট্টগ্রাম সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন যে, কক্সবাজারের বনবিভাগের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত অভিযান ও এত বন মামলা উখিয়ার রেঞ্জার মান্নান ছাড়া আর কেউ করতে পারেননি।
ফলে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রভাবশালী মহল ক্ষিপ্ত সেটা সত্য।