চট্টগ্রাম বন বিভাগ :ভুঁইফোড় উড়ো চিঠি, স্ট্যাটাস আমলে নিয়েই চলে তদন্ত
মেধার ভিত্তিতে পোস্টিং না হয়ে,সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেন হয় তার নেই হদিস-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম অঞ্চল বন বিভাগের কাজকর্ম বড় অদ্ভুত ও রহস্যঘেরা।
এই বনবিভাগের আওতাধীন ডিএফও,রেঞ্জার, ডেপুটি রেঞ্জারদের অনিয়ম অপকর্ম আমলে না নিলেও বিশেষ একটি গ্রুপ আছে যারা নামে বেনামে নিউজ কিংবা ভূয়া পেজ খোলে মানহানি অসত্য ও মিথ্যা বানোয়াট কল্পকাহিনী রচিত করে সবসময়।
সূত্র নিশ্চিত করেছেন ওই কল্পকাহিনী সংবাদ পরিবেশন করার জন্য একটি সিন্ডিকেট কাজ করেন।
এতে রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত মাঝারি পর্যায়ের বেশকয়েকজন কর্মকর্তাও।
এবং ঐসব ভূয়া পেজকে দিয়ে মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করিয়ে উল্টো বন বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের অফিসকে দেয় তারা।
এবং ওই কল্পকাহিনির সাজানো নির্ভর মালিকানাবিহীন অবৈধ ও অনিবন্ধিত সংবাদ দিয়ে আবার আরেকটি গ্রুপের সহযোগিতায় করা হয় তদন্ত কমিটি।
ওই তদন্ত কমিটির সাথেও চলে পুনরায় দেনদরবার,নয়তো ওই তদন্ত কমিটি ভুঁইফোড় পেজকেই প্রাধান্য দেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে বিভিন্ন সময় এই অঞ্চলে কাজ করা অনেক আমলারা পাহাড়সম দূর্নীতির তথ্য কিংবা পোষ্টিং বানিজ্য কেন্দ্রিক অনেক অপকর্মের তথ্য আসলেও কর্তৃপক্ষ সবসময় নীরব থাকেন।
জাতীয় দৈনিক সকালের সময় ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা ‘চট্টগ্রাম সংবাদ’র এই প্রতিবেদকের একটি বিশেষ অনুসন্ধানে এমন সিরিজ তথ্যই ওঠে এসেছে।
এমন একটি ফেইক ভুয়া পেজ Bangladesh crime sector নামে একটি ফেসবুক আইডিকে প্রাধান্য দিয়েই ভিত্তিহীন স্ট্যাটাস আমলে নিয়ে গত ২৫শে জানুয়ারী চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবহারিক বনবিভাগের ডিএফও মো: আলী সাক্ষরিত ২২.০১.০০০.৮৪০. ০০০সিরিয়ালের সর্বশেষ .২৬.১০৬ নং একটি পত্রে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সদরের ডেপুটি রেঞ্জার হাবিবুল হক সুমনের নামে মালিকানাবিহীন ও ভুয়া একটি ফেসবুক আইডির তথ্য আমলে নেয়া হয়।
ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম ব্যবহারিক বন বিভাগের ডিএফও মো:আলীকে তদন্তভার দেয়া হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
পরে ব্যবহারিক বনবিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডিএফও মো:আলী নিজেকে আহবায়ক করে, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আরেক দূর্নীতির রাজপুত্র ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জল হোসাইনকে সদস্য সচিব করে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফওসহ মোট ৯জনকে তদন্ত চিঠির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।
সবচাইতে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, যে ফেসবুক আইডির কোন জীবসত্তাই নেই, মালিকানা নেই,এবং বৈধ হোক কিংবা অবৈধ হোক ওই আইডির কোন নির্দিষ্ট পরিচালক নেই দেশের অভ্যন্তরে- সেই মালিকবিহীন নামহীন ভূয়া বাংলাদেশ ক্রাইম সেক্টর নামে ফেসবুক আইডিকেও দেয়া হয়েছে তদন্ত কমিটির অনুলিপি।
ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চল বন বিভাগ কার্যালয় থেকেই ওই Bangladesh crime sector নামক আইডিকে উৎসাহ দিয়ে প্রমোট করা হয়েছে বলে আশংকা জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক সকালের সময়ের এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে উক্ত তদন্ত কমিটির চিঠি পুনরায় ওই ফেসবুকে উৎসাহ উদ্দীপনায় পোষ্টও করা হয়েছে যা স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ।
ওই তদন্ত কমিটির চিঠি দেখিয়ে বন বিভাগে কর্মরত একাধিক ছবির নামও ঠিকানা সংগ্রহ করে একের পর এক চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তাদের মানহানি করে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদকের কাছে তথ্য রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ওই সব ভূয়া পেজ বা ফেসবুক আইডি কোন ব্যক্তি নির্ভর কেউ চালায়না।
এটা খোদ বনবিভাগে চাকুরি করা কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে নিজেরাই এই প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে দেয় বলেও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদক নিশ্চিত হয়।
এবং দীর্ঘদিন যাবত পাহাড়সম দূর্নীতি ও লোভনীয় পদে যেতে একটি সিন্ডিকেট আছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলে, ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নেয়া হয় না কোন ব্যবস্থা।
তবে রেঞ্জার কিংবা ডেপুটি রেঞ্জার থেকেও তদন্তের নামে অর্থ আদায় করার জন্য একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট Bangladesh crime sector এর মতো বহু ভূয়া ফেসবুক আইডির বিষয় আমলে নিয়ে থাকেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে ভূয়া ফেসবুক আইডি উল্লেখ করে নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন তদন্ত কমিটির পত্রে সাক্ষর করা চট্টগ্রাম ব্যবহারিক বন বিভাগের ডিএফও এবং কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদরের ডেপুটি রেঞ্জার হাবিবুল হক সুমনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি আহবায়ক মোহাম্মদ আলী।
তিনি বলেন, ভাই আমাকে সিএফ স্যারের কার্যালয় থেকে যে রকম ডকুমেন্টস দিছে সেরকম ভাবে আমি বাংলাদেশ ক্রাইম সেক্টর নামক আইডিকেও অনুলিপি দিয়েছি সেটা সত্য।
তবে আমি আগে জানতাম না যে ওটা কোন পত্রিকা নয় কিংবা ওই পত্রিকার পরিচয় বহন করে ওরকম কোন ব্যক্তি যে পৃথিবীতে নেই সেটা আমি নিশ্চিত হলাম।
এবং আরো নিশ্চিত হলাম সেটা একটা ভুয়া ফেসবুক আইডি।
আপনারা ওরকম ভূয়া ফেসবুক আইডিকে অনুলিপি দিয়ে পেজটাকে প্রমোট বা উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন কিনা?এবং অনুলিপি যেহেতু দিয়েছেন ওই ফেসবুক আইডির মালিককে আপনারা কর্তৃপক্ষ অবশ্যই চেনেন,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ওই আইডি থেকে কেউ তো অফিসে আসেনি বরং নিশ্চিত হওয়া গেছে ওটা ভূয়া আইডি।
এদিকে একই ভূয়া আইডির বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুন থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন-মোহাম্মদ আলী সাহেব যেই দিন তদন্ত করেছিল সেই দিন আমি ছুটিতে ছিলাম।তবে ওই আইডির কেউ অফিসে আসেনি কিংবা ওই আইডির কারো সাথে কথা হয়নি বিষয়টা সত্য।
অপরদিকে একই তদন্ত কমিটি সদস্য সচিব কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের দূর্নীতির বরপুত্র এবং সাংবাদিকদের তথ্য না দেয়ার জন্য বনবিভাগে আলাদা পরিচিত পাওয়া উজ্জ্বল হোসাইন বলেন,এটা ভূয়া আইডি নাকি ওই আইডির মালিক আছে কিনা আপনি তদন্ত কমিটির চিঠিতে যিনি সাক্ষর করেছেন ওনার থেকে জেনে নিয়েন।
অনুসন্ধানে আরো ওঠে এসেছে লোভনীয় রেঞ্জে কে কোথায় যাবেন -উপর মহলকে তদবিরের যে একটা চট্টগ্রাম বন বিভাগ কেন্দ্রিক শক্ত সিন্ডিকেট আছে ওই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হলেন হাবিবুল হক সুমন কান্ডের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন ঈদগাঁও রেঞ্জার উজ্জ্বল হোসাইন।