চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ, ইছামতী রেঞ্জের বনভূমির আয়তন কমে আসলেও তৌহিদুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ
জনশ্রুতি রয়েছে, রেঞ্জার তৌহিদুর এক রেঞ্জেই কোটিপতি-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন ইছামতী রেঞ্জের বনভূমির আয়তন ছোট হয়ে আসছে বেশকয়েক বছর ধরে।
ডিএফও থেকে শুরু করে কোন এসিএফের নেই এই রেঞ্জ এলাকা পরিদর্শনের গরজ। ফলে সাবাড় হচ্ছে বনাঞ্চল। মনুষ্য সৃষ্ট নানান কারণে বেদখল হচ্ছে উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন এই ইছামতী রেঞ্জ এলাকা।
এই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানকে ম্যানেজ করেই বনাঞ্চলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন ইটভাটাগুলো।
এই ইছামতী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান অফিস না করে প্রায় সময় রেঞ্জ এলাকার ভেতর ও বাইরে অনেক ইটভাটা ও কাঠ ব্যবসায়ী লাকড়ী ব্যবসায়ী বালিও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা কালেকশনের জন্য ব্যস্ত থাকেন।
রেঞ্জ এলাকায় ভিটি ভরাট,পুকুর ভরাট,ডোবা নালা ভরাট সিন্ডিকেটদের সাথে মিশে ব্যবসাও রয়েছে ইছামতী রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানের।
অবৈধ দখলদারদের কাছে প্লট আকারে বনভূমি দখল দেয়ার গুরুতর অভিযোগ আছে রেঞ্জার তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
এদিকে আরো জানা যায়, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের এই ইছামতি রেঞ্জে সুফল প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৃত কাজ না করেই প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ভাগাভাগির অভিযোগে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
এই দুর্নীতির মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমানের নাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ নিজেরা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি এবং বন বিভাগের সাবেক এক প্রভাবশালী ডিএফও। বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, মুখ বন্ধ রাখতে ওই ডিএফওকে দেওয়া হয়েছে প্রকল্পের ৩১ শতাংশ অর্থ।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, বরং গোটা বন বিভাগে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইছামতি রেঞ্জে সুফল প্রকল্পের আওতায় পূর্বে সৃজিত এক হাজার হেক্টর বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন ১০০ হেক্টর বাগান সৃজনের জন্য বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে বাস্তবে এসব কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পুরোনো বাগানগুলো উপেক্ষায় নষ্ট হয়ে গেছে, নতুন বাগান তো চোখেই পড়ে না। অথচ নথিপত্রে দেখানো হয়েছে, সব কাজ সম্পন্ন এবং পুরো বরাদ্দ ব্যয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সব খরচ নিয়ম মেনেই হয়েছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে স্থানীয়রা বলছেন—সব কিছু শুধু কাগজে-কলমেই।
আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কর্মরত স্টাফদের স্বাক্ষর জাল করে তাদের নামে অর্থ উত্তোলন দেখানো হয়েছে। যারা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তাদের হুমকি, বদলি ও বেতন বন্ধ করার মতো হয়রানির মধ্যে ফেলা হয়েছে।
কয়েকজন ফরেস্ট গার্ড অভিযোগ করেছেন, তারা প্রতিবাদ করায় মানসিক চাপ এবং দফায় দফায় হুমকির শিকার হয়েছেন। ফলে পুরো রেঞ্জে তৈরি হয়েছে এক ধরনের আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিবেশ।
এখানেই শেষ নয়,তৌহিদুর রহমানের এমন দূর্নীতির দৃশ্য চট্টগ্রাম বন সার্কেল অফিসে দৃশ্যমান হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় অন্য-রেঞ্জ এলাকায়ও তার দাপট জাহির করতে মরিয়া।
কোন উর্ধতন কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বা আঙুল তোলার চেষ্টা করলেই সুফল প্রকল্প থেকে দেদারসে কামানো টাকা থেকে ঘুস প্রদান করে ধামাচাপা দিয়ে দেয়।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ইছামতীর রেঞ্জার তৌহিদুর রহমানকে অফলাইন ও অফলাইনে কল করা হলে তিনি কল ধরেননি। পরে প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে টেক্সট করা হলেও রেঞ্জার তৌহিদুর রহমান ফোন ধরেননি।
পর্ব ০১