সংরক্ষিত বনভূমির বালি লুট করতে গিয়েই সেই বালিতেই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু
বনবিভাগের নিষেধ শুনলে এই ঘটনা ঘটতোনা-স্থানীয়রা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার ফুলছড়ি রেঞ্জের খুটাখালীতে সংরক্ষিত বনের ভেতর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে চোরাবালিতে ডুবে সামশুল আলম (৫০) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে খুটাখালী ইউনিয়নের পান্ডা চুরি কালাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সামশুল আলম ওই ইউনিয়নের সেগুন বাগিছা ৬নং ওয়ার্ডের অলি আহমদের ছেলে। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুটাখালী বন বিটের অধীনে কালাপাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় বশির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলী লিটন, নুরুল আলমের ছেলে মো: ফারুক এবং মোক্তার আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হামিদ অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।
আজ বিকেলে সামশুল আলম ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ করার সময় হঠাৎ বালু তোলার ফলে সৃষ্ট চোরাবালির গর্তে তলিয়ে যান। পরে অন্য শ্রমিক ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সংরক্ষিত বনের ভেতর ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে বনের পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তাঁরা এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এই বিষয়ে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিহত শামশুল ইসলামসহ সক্রিয় একটি গ্রুপ বনবিভাগ ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন । ফলে প্রভাবশালী চক্রের ফাঁদে পড়ে আজকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের সময় শামশুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এদিকে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: কুদ্দুস রহমান চট্টগ্রাম সংবাদ পত্রিকাকে বলেন- সংরক্ষিত বন থেকে যারা এই অপকর্মে লিপ্ত এবং যাদের কার্যক্রমের ফলে এই শামশুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে খুটাখালীর একাধিক বাসিন্দা চট্টগ্রাম সংবাদকে জানিয়েছেন, যে স্পটে আজকে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে সেই জায়গায় ইতিপূর্বে বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এই বালিখেকোদের দমনে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছিলো। বন বিভাগের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তারা এই কাজ করতো বলে জানান।
এবং উক্ত বালির পয়েন্টকে ঘিরে সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে আগে বেশ কয়েকটি ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বন মামলা দায়ের করেন বলেও জানান তারা।স্থানীয়রা আরো বলেন, এত কিছুর পরও বন বিভাগ আর উপজেলা প্রশাসনের ডাক না শোনাতেই এত বড় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ।