সাতকানিয়া গারাংগিয়ায় এক গৃহবধূকে মারধর করার অভিযোগ ওঠেছে

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়ায় এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ ওঠেছে শশুর ও সৎ শাশুড়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় আহত গৃহবধূর নাম রিমা আক্তার তিনি সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গারাঙ্গিয়া এলাকার বোরহান উদদীনের স্ত্রী।

আহত বোরহান উদদীনের স্ত্রী রীমা আক্তার বাদী হয়ে নিম্নোক্ত ৪জনের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন যথাক্রমে ১। আলী হোছাইন (৭৫), পিতা- মৃত আমির হামজা।
২। মাসুমা আক্তার (৩৫), স্বামী- আলী হোছাইন ।
৩। ছেনু আরা বেগম (৫৫), স্বামী- মাহমুদুল হক।
৪। সাবিয়া আক্তার (৪৩), স্বামী- মোঃ খোকন ।
সর্বসাং- গরাংগিয়া, সোবার পাড়া, ০৮নং ওয়ার্ড, সোনাকানিয়া।

এদিকে রীমা আক্তারের দায়ের করা  অভিযোগে তিনি বলেন- উপরোক্ত ১নং বিবাদী সম্পর্কে আমার শশুর, ২নং বিবাদী সৎ শ্বাশুরি, ৩ ও ৪নং বিবাদীদ্বয় ফুফি শ্বাশুরি হয়। বিগত ০৪ বৎসর পূর্বে উপরোক্ত ১নং বিবাদী ছেলে বোরহান উদ্দীন এর সহিত ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক আমার বিবাহ হয়।
বিবাহের পর হইতে আমি আমার স্বামীর সাথে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করিয়া আসিতেছি। মাঝে মধ্যে আমরা শ্বশুর বাড়ী বেড়াইতে আসিলে উপরোক্ত বিবাদীগণ প্রায় সময় আমার সাথে সাংসারিক ছোট খাটো বিষয় নিয়া ঝগড়া বিবাদী সহ আমাকে মারধর করিয়া আমার আমাকে জখম করিত এবং আমাদেরকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা করিয়া আসিতেছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি আমার স্বামী এলাকার গন্যমান্য
ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করিলে তাহাদের মধ্যস্থতায় একটি শালিশী বৈঠক হয়। উক্ত বৈঠকে শালিশকারকগণ উক্ত জায়গা পরিমাপ করিয়া উপরোক্ত ১নং বিবাদীকে এবং আমার স্বামীকে আলাদা করিয়া দেয়। আমার শাশুরি অসুস্থ হওয়াতে অদ্য ১৪/০৪/২০১৬খ্রি. দুপুর অনুমান ০২:০০ ঘটিকার সময় আমি ও আমার ননদ বিলকিছ ফাতেমা (১৮) চট্টগ্রাম শহর হইতে আমার শাশুরিকে দেখতে আসি। ঐ সময় উপরোক্ত ১নং বিবাদী আমার স্বামীর ভাগের জায়গা হইতে গাছ কাটিতেছিল। তখন আমার ননদ উপরোক্ত ১নং বিবাদীকে তাহাদের ভাগের অংশের গাছ বুঝাইয়া দিতে বলিলে উক্ত বিবাদী ক্ষিপ্ত হইয়া আমাকে ও আমার ননদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। ঐ সময় আমি গালিগালাজ করিতে বারণ করিলে উপরোক্ত ১নং বিবাদী আমার চুলের মুঠি ধরিয়া মাটিতে আছড়ে ফেলিয়া দেয়। ঐ সময় উপরোক্ত ১ ও ২নং বিবাদীদ্বয় গাছের লাঠি ও লোহার রড় দ্বারা এলোপাতাড়ি মারধর করিয়া আমার কপালে, পিঠে, পায়ে সহ আমার শরীরের বিভিন্নস্থানে মারাত্মক বেদনা দায়ক নীলা ফুলা জখম করে। মারধরের একপর্যায়ে উপরোক্ত ১নং বিবাদী আমার পরনের কাপড় ধরিয়া টানা হেছড়া করে আমাকে রাস্তার মধ্যে নিয়া আমার মানহানী করার চেষ্টা করে। ঐ সময় আমার ননদ বিলকিছ ফাতেমা আমাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করিলে উপরোক্ত ৩ ও ৪নং বিবাদীদ্বয় তাহাকে চরথাপ্পর আমাদেরকে গেইটের মধ্যে তালা মারিয়া দেড় ঘন্টা অবরুদ্ধ করিয়া রাখে। রাখে। পরে আমার ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশ থেকে লোকজন আসিয়া আমাকে বিবাদীদের কবল হইতে উদ্ধার করে। ঐ সময় বিবাদীগণ আমাকে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে যে, আমি যদি বিবাদীদের এইরূপ কর্মকান্ডের বিষয়ে কাহারো নিকট অবহিত করি কিংবা আইনের আশ্রয় নিই তবে আমাকে পুনরায় মারধর সহ প্রাণে হত্যা করিবে, মিথ্য মামলায় ফাসাইয়া হয়রানী করিবে। তখন আমর ননদ বিলকিছ ফাতেমা পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া আশপাশের লোকজনের নিকট ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে আমি আমার ননদ বিলকিছ ফাতেমার সহায়তায় সাতকানিয়া সরকারী হাসপাতালে গিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করি। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি আমার স্বামী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করিয়া তাহাদের পরামর্শে আইনী প্রতিকার পাওয়ার লক্ষ্যে থানায় অত্র অভিযোগ দায়ের করি।

 

তিনি আরো বলেন,আমি এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.