লোহাগাড়ার সরই খালের বালু: তবে কি ইউএনও’র আস্কারায় রাজস্ব গিলছে চেয়ারম্যান?
বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর-
নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম :
লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মিঠার দোকানের দক্ষিণ পাশে নতুন পাড়া এলাকায় সরই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এতে হুমকিতে পড়েছে উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকার কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি ও জীববৈচিত্র্য। এছাড়াও অবৈধভাবে এসব বালু উত্তোলনের ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন রাতের আঁধারে ওই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে চেয়ারম্যান ইকবাল ও তার সমর্থকরা। দিনের বেলা সেসব বালু ডাম্পার ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ের ৯ নং ওয়ার্ডের মিঠার দোকানের দক্ষিণ পাশে নতুন পাড়ার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরই খাল (অরি খাল) থেকে ৩টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, পাশে বালির স্তূপ থেকে ডাম্পার গাড়ি দিয়ে বালি বিক্রি হচ্ছে। শতাধিক গাড়িতে করে বালু বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, উল্লেখিত স্থানে সরকারিভাবে কোন বালু মহল নেই। কিন্তু থেমে নেই এসব অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এসব কাজ করছে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা আরো বলেন, উপজেলা প্রশাসন চাইলে এসব বালু জব্দ করে রাজস্ব আদায় করতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুটিবিলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন, এসব বালু উত্তোলনের সাথে আমি জড়িত নই। কেউ হয়তো ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার নাম জড়িয়ে দিচ্ছে।যেহেতু সামনে নির্বাচন সেহেতু এসবে জড়িয়ে পড়ার সময় আমার নেই।
তিনি কখনো বালির ডাক নেননি বলেও জানান,কিন্তু তার ছোট ভাই বালির ইজারার ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত বলে নিশ্চিত করেছেন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ-বিন-আখন্দকে মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও রিসিভ না করায় অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।