অস্ত্রবাজি-চাঁদাবাজি করলে ছাড় নেই: নওফেল

চট্টগ্রাম নগরীতে কেউ অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজি করলে কঠোরভাবে দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সম্প্রতি কবরস্থান দখল নিয়ে নগরীর বাকলিয়া থানার আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের সদস্য উপমন্ত্রী নওফেল একথা বলেন।

গত ১১ জুন সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় ‘বড় মৌলভী বাড়ি’ কবরস্থানের দখল নিয়ে স্থানীয়দের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ ১৩ জন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছিল, বড় মৌলভী বাড়ির লোকজন পুরনো সাইনবোর্ড ফেলে কবরস্থানের নতুন সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে স্থানীয় একদল তাদের বাধা দেয়। এসময় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বড় মৌলভী বাড়ির সাইফুল্লাহ মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি বাদি হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানে লাশ দাফন করতে বাধা দিয়ে আসছে স্থানীয় এয়াকুব আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। টাকা না দিলে লাশ দাফন করতে দিত না তারা। এছাড়া এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণ করতে গেলেও এয়াকুব বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ জানান তারা।

এসব অভিযোগ শুনে উপমন্ত্রী নওফেল পুলিশ ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য মহড়া, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, তাদের জিম্মি করা আমরা মেনে নেব না। আমি এই এলাকার জনপ্রতিনিধি। এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না। এই এলাকার মানুষ শান্তিপ্রিয়। কেউ সন্ত্রাস করলে, অস্ত্রবাজি করলে, চাঁদাবাজি করলে পুলিশের প্রতি অনুরোধ, কঠোরভাবে দমন করবেন, তাদের যেন কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া না হয়’।

এসময় উপমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তির বাংলাদেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছি। কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে জনজীবনে শান্তি নষ্ট করলে তাদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। তাদের কেউ রক্ষা করতে চাইলে তাদেরও ছাড় দেওয়া যাবে না’।

নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডেরে সভাপতি আহমদ ইলিয়াস, সাধারণ সম্পাদক ও চসিকের কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, বকশিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ বাহাদুর, বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমীন এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে উপমন্ত্রী ঘটনায় আহতদের দেখতে তাদের বাসায় যান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.