চাকরি নয়, দেশীয় পণ্যের বিকাশের দৌড়ে স্বর্ণার ‘কালার ক্রেজ

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২১

ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে সুঁই সুতা নিয়ে পুতুলের জামা বানাতেন। স্বপ্নের বীজটা সেখান থেকেই বোনা  হয়ে  গিয়েছিলো স্বর্ণার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিজের পছন্দের কাজটা আবার করার ইচ্ছা থেকেই জন্ম নেয় ফেসবুক পেজ ‘কালার ক্রেজ’।

সুতি, সিল্ক, মসলিন, হাফসিল্ক প্রায় সব ধরনের দেশীয় তন্তুতে নিজস্ব ডিজাইন দিয়ে পোশাক তৈরি করে এখন সফল উদ্যোক্তা ‘কালার ক্রেজ’ এর স্বত্ত্বাধিকারী মারুফা আক্তার স্বর্ণা। এক পা দু’পা করে শুরু করলেও এখন তিনি সফলতার পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। শোরুম নিয়েছেন, নিজস্ব কারখানায় নিজের ডিজাইনে তৈরি করেন কালার ক্রেজের পোশাক। সেখানে কর্মসংস্থানও হয়েছে বেশ কয়েকজনের।

শুরুটা হয়েছিলো পরিচিতদের জন্য পোশাক ডিজাইন করার মধ্য দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে তৈরি হয় ‘কালার ক্রেজ’। আর এখন স্বর্ণার ‘কালার ক্রেজ’ ডানা মেলেছে অনেকটা। স্বপ্ন দেখেন আরো অনেক পথ পাড়ি দেয়ার।

তাঁতীদের হাতে বোনা শাড়ি নিয়ে আগ্রহ থেকেই দেশীয় তন্তু নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। দেশীয় তন্তুতে নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি করা কালার ক্রেজের সব পণ্যে রয়েছে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

পোশাকে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পেয়ে ঘর সাজানোর পণ্য যেমন কুশন কাভার, ম্যাট তৈরি শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি গয়নার ডিজাইনও করছেন। তাতেও বেশ সাড়া পাচ্ছেন ক্রেতাদের। কাজ করছেন বিয়ের পোশাক নিয়েও।

চাকরি নয়, দেশীয় পণ্যের বিকাশের দৌড়ে স্বর্ণার ‘কালার ক্রেজ’

স্বর্ণা জানান, ‘আমাদের মার্কেট এখন বিদেশি পণ্যে  ছেয়ে আছে। তবে দেশি পণ্যের চাহিদাও আছে। একটু দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করলেই হয়ত আমাদের দেশি পণ্যগুলো আবার আগের আবেদন ফিরে পাবে। আমাদের নিজেদের পন্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। নিজেদের এতো ভালো কাঁচামাল আছে যে সেগুলো দিয়ে কন্টেম্পোরারি ডিজাইন করতে পারলে বিদেশেও আমাদের তাঁতশিল্পকে আরো বেশি করে পরিচয় করাতে পারব। তাই দেশের কাপড়কে ব্র‍্যান্ডিং করাই আমার মূল লক্ষ্য।’

চাকরি নয়, দেশীয় পণ্যের বিকাশের দৌড়ে স্বর্ণার ‘কালার ক্রেজ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমসে পড়াশুনা স্বর্ণার। কখনো চাকরির পেছনে ছুটেননি। ব্যবসা কেন্দ্রিক পড়ালেখাটা তার উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে খুব সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমি কখনো কাউকে উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পড়ালেখা করতে দেখিনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার উৎসাহ দিলে হয়ত জার্নিটা আরেকটু সহজ হত। যাইহোক আমি উদ্যোক্তা হয়েছি আমার নিজের আগ্রহে। ভালোলাগা থেকে শুরু করলেও পরে বুঝতে পারি যে এটাই আমার নেশা।  আর নেশা কে পেশা হিসেবে নিতে পারার মত সৌভাগ্য খুব সংখ্যক মানুষেরই হয়। আমি মনে করি আমি তাদের মধ্যে একজন।’

উদ্যোক্তা ও ডিজাইনার হিসেবেই নিজেকে আরো প্রতিষ্ঠা করতে চান স্বর্ণা। জানান, ভালো ভালো প্রাইভেট ও সরকারি চাকরি বাদ দিয়ে নিজের ছোট্ট একটা প্রতিষ্ঠানে লেগে থাকা সহজ ব্যাপার নয়। একটা হ্যান্ডসাম সেলারি আর নিরাপদ প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের জন্য পারিবারিক ও সামাজিক অনেক চাপ থাকে। কিন্তু আমি সামাজিক মর্যাদার চেয়ে আত্মতুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়েছি। তাই কতটুকু সফল জানিনা কিন্তু আমি একজন সুখী উদ্যোক্তা।’

সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বনির্ভর করার স্বপ্ন দেখেন স্বর্ণা। আর সে পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন তিনি।