দেড় বছর অতিবাহিত হলেও খুলেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

 

মোঃ মহাসিন মিয়া-দীঘিনালা প্রতিনিধি

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিগত দেড় বছর ধরে এখন পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এমনকি করোনার কারনে ফের পিছিয়েছিলো গত এপ্রিল ২০২০ এ শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা। ফলে দেশের হাজার হাজার স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী আর কখনো নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরতে পারবে কি না তা নিয়ে শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের মনে জেগেছে শঙ্কা।

এমতাবস্থায় দেশের সার্বিক ব্যবস্থা বিবেচনা করে, PEC, JSC/JDC, এবং HSC- ২০২০ অটোপ্রমোশন দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনকি এখন পর্যন্ত পিছিয়ে আছে SSC, HSC-২০২১ সহ সকল পাবলিক পরীক্ষা। এমনকি বিশ্ব জুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আবারো দেশে লক ডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। বন্ধ হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সহ অনান্য পরীক্ষাও। এমন শঙ্কায় পৃথিবীজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এতোটা বিঘ্ন ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাবিদ’রা। শিক্ষার্থীরা যেনো পড়াশোনায় পিছিয়ে না থাকে সে জন্যে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইন ভিত্তিক রুটিন অনুসারে নিয়মিত ক্লাস আব্যাহত রেখেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শঙ্কা প্রভাব ফেলেছে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার উপরেও।

যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় এবং সকল শিক্ষার্থী টেলিভিশন এবং স্মার্টফোনের আওতায় নেই বলে অনেকে শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে চলমান অনলাই ক্লাস থেকে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় শিক্ষার মান বর্তমান আনুমানিক (৪৪.০৭%)। পাহাড়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছিলেন সরকার। গত দেড় বছর ধরে করোনার থাবায় গত মার্চ ২০২০ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন একে বারেই পিছিয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন পর্যন্ত খোলা হয়নি দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ণ কলেজের অধ্যক্ষ জনাব, সাধন ত্রিপুরা বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কলেজ ক্যাম্পাস ময়লা আর্বোজনা দিয়ে ডেকে গেছে, আমরা চেষ্টা করছি কলেজ ক্যাম্পাসকে সব সময় পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে। এমনকি বহু শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ফোন করে তারা হতাশাময় সময় পার করছে বলে জানাচ্ছেন। জানতে চাচ্ছে কবে ফিরবে তাঁদের প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসে। তবে আমরা সকল শিক্ষার্থীদেরকে অনলাইনে নিয়মিত ক্লাশ করতে অনুপ্রানিত করছি।

এদিকে দীঘিনালার ১ নং কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক জনাব, একে, এম, বদিউজ্জামান (জীবন) বলেন, দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ। ছোট ছোট বাচ্চারা ফোন করে জানতে চাচ্ছে, স্যার কবে নাগাদ আমাদের স্কুল খুলবেন, আমরা কি আর আমাদের স্কুলে পড়তে পারবোনা। অনেক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগনও আমাদের প্রতিনিয়ত ফোন করে জানতে চাচ্ছে কবে নাগাদ স্কুল খোলা হবে, বাচ্চারা পাগল হয়ে গেছে কবে তাঁরা তাঁদের স্কুলে ফিরবে।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মনে আতংক বিরাজ করেছে, কি হবে আমাদের লেখাপড়ার। লেখাপড়ায় পিছিয়ে যাবার চিন্তায় হতাশায় আছেন অনেকে। সব মিলিয়ে অনিশ্চিত লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত পার্বত্য অঞ্চল সহ দেশের হাজারো শিক্ষার্থী

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.