শহরের ইয়াবার হাট বসিয়েছে মাদকবারীরা

কক্সবাজার পৌর শহরের অলিগলি ইয়াবার হাট বাজারে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বার্মিজ মার্কেট এলাকার রাখাইন পল্লী, বড় বাজার এলাকার রাখাইন পল্লী, আলীর জাঁহাল, সাহিত্যিকা পল্লী, গরুর হালদা সড়ক, সাব মেরিন ক্যাবল, বাদশাঘোনা সংলগ্ন পাশের্^র গলিতে দিন-রাত ইয়াবা সেবনসহ বিক্রিতে ব্যস্ত এসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা। তাদের আদলে বিশাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা নিরবে বিক্রি করে যাচ্ছে। প্রশাসন কাউকে ইয়াবা নিয়ে হাতে-নাতে গ্রেফতার করলেও টাকার জোরে আইনকেও তুচ্ছ করে ফেলে পূণরায় জেল থেকে বেরিয়ে এসে এসব অবৈধ কারবারের সাথে পূণরায় জড়িয়ে পড়ে। এ অবৈধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অপরাধের সাথেও লিপ্ত থাকে বলে স্থানীয় সচেতন মহলদের মত প্রকাশ। কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে ইয়াবার গডফাদার নিকট থেকে কক্সবাজার শহরে কৌশলে ও প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা প্রবেশের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ১০-৩০ বছর বয়সী ছেলেদের ইয়াবা হাতে ধরিয়ে দিয়ে এলাকার যুব ও ছাত্র সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাকে কেউ প্রতিবাদ করলে সে নির্মমতার স্বীকার হয়। পরে পরিবারের উপরও চলে আসে নির্মম নির্যাতন। তারা যে কোন অপরাধ সংঘঠিত করতে মোটেও তোয়াক্কা করে না। বিশেষ করে গোলদিঘীর পাড়, বৈদ্যঘোনা, মোহাজের পাড়া, ঘোনার পাড়া, পাহাড়তলীর বিভিন্ন অলিগলিতে ইয়াবার হাট বাজার নামে অনেক রাস্তা পরিচিতি পেয়েছে। এসব বেপারীদের অতিদ্রæত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি প্রদান করা না গেলে ভবিষ্যতের কক্সবাজার শহর তলানীতে পৌছাবে। বর্তমানে সমাজে দেখা যায়, অনেক বড় বাপের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মাস কিংবা রাতারাতি কোটিপতি বনে গিয়ে সমাজের নেতৃত্বও দিচ্ছে তারা। যাদের বিগত ১ বছর আগেও ঘুমানোর বালিশ পর্যন্তও ছিল না, তারা এখন ৫ থেকে ৮ তলা বিশিষ্ট দালানের মালিক। তাদের আয়ের উৎস খোঁজে দুদক কর্তৃক অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও আদৌ তা উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। দেখা যাবে, অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দুদক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযান চালালে, তাদের বিগত ২-৩ বছরের আয়ের উৎস কিছুই পাওয়া যাবে না। শুধুই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে ইয়াবার টাকার। জানা যায়, কক্সবাজার শহরের ইয়াবার আর্শিবাদে বাদশাঘোনা এলাকার অনুষ্ঠান করার নাম ভাঙিয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রকাশ: প্যাকেজ আব্দুল্লাহ নামক ব্যক্তি কর্তৃক বর্তমানে কোটিপতি হয়ে সমাজের বিত্তবানদের তালিকায় নাম লেখিয়েছে। যাদের আয়ের উৎস তদন্ত করলে শুধুই পাওয়া যাবে প্যাকেজের অনুষ্ঠান কন্টাক নেওয়া। বর্তমানে সমাজের কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্যাকেজ না করলেও তারা এমন টাকার মালিক কিভাবে হলো তা নিয়ে এলাকার জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শহরে তার বিশাল একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে। সে সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও সে পরিচিতি লাভ করেছে। তাদের এমন আচরণের এলাকার যুব ও ছাত্র সমাজ বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এদিকে একই এলাকার একাধিক মামলার আসামী নবী হোছন নামক এই ব্যক্তিও প্যাকেজ আব্দুল্লাহর সাথে ইয়াবা ব্যবসা করে বর্তমানে সেও টাকার পাহাড় গড়েছেন। যাদের বিগত ২-৩ বছর আগেও থাকার মতো একটি বাড়িও ছিল না। তাদের বর্তমানে বহুতল ভবন। শুধু তাই নয়, এলাকায় তারা ভূমিদস্যুদের তালিকায়ও রয়েছে বলে এলাকাবাসীদের অভিমত। প্রশাসন তাদেরকে গ্রেফতার করার কয়েকবার ধাওয়া করলেও, যেকোনভাবে তারা আইনের ধরপাকড় থেকে রেহায় পেয়ে যায় এবং পূণরায় এসব অপরাধের সাথে সংঘঠিত লিপ্ত হয়ে পড়ে। যার কারণে এলাকাবাসীরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে না। আর প্রতিবাদ করলেও প্রতিবাদকারী ব্যক্তি কিংবা তাদের পরিবারের উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। স্বীকার হতে হয় তাদের অত্যাচারের। আরো জানা যায়, শহরে এসব ইয়াবা ও মাদককারবারীরা দেশের প্রত্যঞ্চলে সুকৌশলে ইয়াবার চোখের পলক ফিরতে দেরি ইয়াবার বড় বড় চালান পৌছানো দেরি নই। এভাবে টাকার জোরে তারা সখ্যতা গড়ে তুলেছে প্রশাসনের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকাদের সাথে। কক্সবাজার শহর এই রকম অনেক ইয়াবা সিন্ডিকেটের প্রধান ব্যক্তিরা রয়েছে। এদিকে কক্সবাজার শহরের গরুর হালদা এলাকার কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা যে কোন সময় মানুষের সাথে ঝগড়া বিবাধ কিংবা অপরাধ করে যাচ্ছে নিয়মিত। তাই তাদের বিরুদ্ধে দ্রæত অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। অন্যথায় তাদেরকে রুখে দেওয়া সম্ভব হবে না। তারা দিন দিন আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে এলাকায় এসব অবৈধ কারবারী করে যাবে নিরবে। বলায় বাহুল্য, ইয়াবাকারবারীরা কাদের ইন্ধনে ও সুকৌশলে আইনের ধরপাকড় থেকেও কিভাবে রক্ষা পেয়ে যায় তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা ইয়াবা ব্যবসায়ী কিংবা যে কোন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। অভিযুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ গ্রহণ পূর্বক অতিশীঘ্রই আইনের আওতায় এনে আইনগতভাবে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.