মালিকানার অর্থ আত্মসাৎ’র গল্প ঢাকতেই প্রযোজনা হচ্ছে ভিন্ন নাটক, নেপথ্যে কি জাফর?

আল হায়াত হাসপাতালটি কসাইখানায় রূপান্তরিত হওয়ার আশংকা স্থানীয়দের-

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া কেরানী হাটে অবস্থিত আল আল হায়াত হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ এর পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে গ্রামের সহজসরল বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠেছে প্রায় দেড় বছর ধরে।

সাধারণ শেয়ার হোল্ডার ও ডিরেক্টরদের হাসপাতালের হিসাব এবং হাসপাতালে প্রবেশ নিষিদ্ধের মতো ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের দেয়া আদেশের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হলেও পালন করা হয়নি সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। ফলে গতকাল ১জুলাই চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হাসপাতালটিতে বিনিয়োগকারী আরফাত নামে এক ব্যক্তি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের আর্থিক দূর্নীতির অভিযোগ তোলে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে মো: আরফাত প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করা সুবিধা বঞ্চিত ৩৬জনের প্রতিনিধি হিসেবেও নিজেকে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন বরাবর দেয়া কপির একটি ফটোকপি প্রতিবেদকের হাতে আসে এবং সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেয়া একটি অভিযোগের কপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার(ভূমি) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদ্বয়ের গৃহিত সিদ্বান্তের একটা কপিও প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে।

বিভিন্ন নথিপত্র ও সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা করে এবং হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, কেরানী হাটের আল হায়াত হাসপাতাল প্রা:লি: এর পরিচালনা পর্ষদের বর্তমানে ডিএমডি পদে থাকা মো: আবু জাফরের আর্থিক অনিয়মের ব্যাপক দূর্নীতি ঢাকতেই মূলত সাধারণ শেয়ার হোল্ডার ও ডিরেক্টরদের সাথে খারাপ আচরণ করে যাচ্ছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় গড়ে তোলা হলেও কথায় কথায় হুমকি দিয়ে উল্টো বিনিয়োগকারীদের জয়েন্ট স্টক কোম্পানির আওতায় শেয়ার সার্টিফিকেট প্রদান না করে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের গত বছরের ২১/১২/২০২৫ সালের গৃহিত সিদ্ধান্তকে দেখানো হচ্ছে বৃদ্ধাঙ্গুলি।

কি আছে ২১/১২/২০২৫ তারিখে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে-

মূলত আরফাত নামে একই ভুক্তভোগী কষ্টার্জিত টাকা বিনিয়োগের হিসাব ও পূর্নাঙ্গ মালিকানার দলিল খোঁজতে গেলে ডিএমডি আবু জাফর গং য়ের কাছে হেনস্তার শিকার হয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ প্রদান করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানার্তে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান এসিল্যান্ডকে প্রতিনিধি করে সাতকানিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জসিম উদদীনকে দায়িত্ব প্রদান করেন, সর্বশেষ বর্তমান সাতকানিয়া সহকারী কমিশনার ভূমি সামশুজ্জামান ও সাতকানিয়া উপজেলা সাবেক প:প: কর্মকর্তা ডাক্তার জসিম ও কেরানী হাট আল হায়াত হাসপাতালের চেয়ারম্যান জসিম সাক্ষরিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩৬জন ডিরেক্টরকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির আওতায় নিয়ে এসে যাবতীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়ার জন্য পরবর্তী ১৫দিনের সময় বেঁধে দেন।

এই বেঁধে দেয়া ১৫দিনের সময়কে আল হায়াতের ডিএমডি আবু জাফর গং মানেননি বরং উল্টো ওই ডিরেক্টরের আপন ঘরানার অপরাপর ডিরেক্টরদের বিভিন্ন অপমানজনক কুৎসা রটিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করার মিশনে নেমেছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালটিতে বিনিয়োগকারী একাধিক ডিরেক্টর প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আসলে এখানে পর্ষদ বলতে কিছুই নেই সবকিছুর মূল হোতা হাসপাতালটির ডিএমডি আবু জাফর।

তিনি আরো বলেন এই আবু জাফর একসময় প্রথম জীবনে একজন সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে অল কেয়ার হসপিটাল, কেরানীহাটে এক্সম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন লবিং ও অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আশশেফা হসপিটালের ম্যানেজার পদে নিয়োগ পান। সে সময় তিনি নিজের মালিকানাধীন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান “মাইন্ডস সফটওয়্যার এন্ড টেকনোলজি” হসপিটালে জোরপূর্বক ব্যবহার শুরু করেন এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে হিসাবপত্রে গড়মিল ঘটিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২২ সালে আশশেফা হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

বরখাস্তের পর উক্ত ব্যক্তি হাসপাতাল করার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণা শুরু করে। দোহাজারী বিওসি মোড়ে “ন্যাশনাল হসপিটাল” প্রতিষ্ঠার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। টাকা ফেরত চাইলে তিনি সংশ্লিষ্ট জমি বিক্রির অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন।

বর্তমানে তিনি গ্রামে অভিজাত বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং কালিইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আবু জাফর প্রতিবেদককে বলেন, আরফাত আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার বিষয়টা সঠিক তবে আরফাত এখনো আমাদের ডিরেক্টর নয়, তিনি ডিরেক্টর হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তখন প্রতিবেদক পাল্টা প্রশ্ন করেন ডিরেক্টর না হলে আপনি আরফাত গংয়ের টাকা নিয়ে আল হায়াত হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন কিনা?তখন তিনি বলেন করেছি বলেই তো আমরা লাভসহ ৬জনের টাকা ফেরত দিতে চাচ্ছি।

তখন প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন আপনি তো তাদেরকে ছাঁটাই কিনবা ইন করার এখতিয়ার রাখেননা।

রাখলে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে যারা আছে প্রত্যেকের সম্মতি লাগবে।তখন তিনি বলেন আমরা যারা হাসপাতাল চালাচ্ছি তারা মিলে একটা রেজিমেন্টের করে লাভসহ জনকে বাদ দেয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মারফত নোটিশ ইস্যু করেছি।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশকে কেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কথার মারপ্যাচে উপজেলা প্রশাসন এরকম দেয়নি মন্তব্য করতে চাইলে প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত কপির কথা বলা হলে তিনি সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তবে ওই সিদ্ধান্ত ডাক্তার মঞ্জুর মোর্শেদের ইন্ধনে উপজেলা প্রশাসন জোর করে চাপিয়ে দিয়েছেন বলে জানান মি.আবু জাফর।

প্রতিবেদক পাল্টা প্রশ্ন করেন আপনি তাহলে সিদ্ধান্তপত্রে সাক্ষর করা ব্যক্তিগনের বিরুদ্ধে জিডি করেননি কেন?এমন প্রশ্নের উত্তরে অবশ্যই তিনি চুপ থাকেন।

এদিকে হাসপাতালের পক্ষে হাসপাতালের চেয়ারম্যান জসিম সাক্ষর করেছেন বললে প্রশ্ন করা হলেও ওটা ওই জসিম নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

 

চলমান পর্ব ০১

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.