নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল প্রতিহত করতে গেলে সন্ত্রাসী বনদস্যুরা পানেরছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার মোঃ শরিফুল আলম, ফরেস্ট রেঞ্জার, মোঃ হুমায়ুন কবির, ফরেস্ট গার্ড, সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি, মোঃ সাজিদ, বাগান মালি ও মোঃ মিজানুর রহমান, ইআরটি সদস্যসহ আরও কয়েকজন শ্রমিককে মারাত্বকভাবে আহত করে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলায় মারাত্বকভাবে আহতদের রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, গত ২৫ জুলাই সমিতিপাড়া এলাকায় সৃজিত বনভূমি জবরদখল করে নির্মিত একটি অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ করে বন বিভাগ। একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় শিয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় ধ্বংসে ব্যবহৃত কুখ্যাত “মোক্তার মেম্বার” এর একটি ডাম্পট্রাক জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে বনভূমি দখলকারী ও পাহাড়খেকো চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের আঘাত লাগে। এরই প্রতিশোধ নিতে আজ ২৭ জুলাই (সোমবার) সকালে পানেরছড়া রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা আরেকটি পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া বনকর্মীদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে অতর্কিত হামলা চালায় দখলদার চক্র।

ঘটনায় সমগ্র বাংলাদেশে কর্মরত বনবিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে প্রচন্ড আতংক বিরাজ করছে।
এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ ফরেস্ট্রী ফোরাম (বিএফএফ) এর পক্ষ থেকে উক্ত নেক্কার ও নিন্দনীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তারা তাদের বিবৃতিতে আরো বলেন, বন, বনভূমি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে আর কত বন কর্মীতে রক্ত দিতে হবে। প্রতিনিয়ত দেশের নানা প্রান্তে অনাকাক্খিত ঘটনা ঘটছে। আমরা বাংলাদেশ ফরেস্ট্রি ফোরাম (বিএফএফ) সকল বন বীরযোদ্ধাদের নিরাপদ সুরক্ষার সুস্পষ্ট নীতিমালা চাই। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় বন মন্ত্রী, বন প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় সচিব মহোদয় এবং বন অধিদপ্তর এর প্রধান বন সংরক্ষক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বন অধিদপ্তরে মাঠ পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধিসহ বন অধিদপ্তরকে আধুনিকায়ন করতে হবে। বন বীরযোদ্ধাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বন খেকো, পাহাড় খেকো আর জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করতে হবে। আইন অমান্যকারীদের দিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বনভূমি রক্ষা ও বন আইন বাস্তবায়নে নিয়োজিত বনকর্মীদের ওপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা কেবল বন বিভাগের ওপর নয়, রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন ও আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। যদি বনভূমি দখলদার, পাহাড়খেকো ও বনখেকো চক্র এভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েও পার পেয়ে যায়, তবে তা বন অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলবে এবং বন সংরক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই হামলার সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি বনকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বনভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বনখেকো, বনভূমি জবরদখলকারী, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারকারী দেশ ও জাতির শত্রু। এরা যে দলেরই হউক তাদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়ার অপরাজনীতি বন্ধ হউক। দুষ্কৃতিকারীদের আইনের হাতে তুলে দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার জন্য সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিগণকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
বনভূমি রাষ্ট্রের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত বনকর্মীদের ওপর হামলা মানে রাষ্ট্রের ওপর হামলা। বনখেকোদের এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।
মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের রেশন ও ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে।