একজন প্রতিবন্ধীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এলাকার মানুষদের

প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি

 

লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধীর জমি জবর দখলের চেষ্টা নির্যাতন ও উল্টো মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেনের পুত্র ভূমিদস্যু জামাল উদ্দিন (৩৫) ও মৃত সৈয়দুর রহমানের পুত্র আবুল হোসেন (৫৫) গ্যংয়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জামাল উদ্দিন ও আবুল হোসেন ওই অসহায় প্রতিবন্ধীর পাশাপাশি এলাকার সচেতন নাগরিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, জামাল উদ্দিন ও আবুল হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে টাকা ও ক্ষমতার জোরে এ অসহায় প্রতিবন্ধীর জমি দখলে ভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশে বসলেও জামাল উদ্দিন ও আবুল হোসেন সালিশে উপস্থিত হয়নি।

কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আহাম্মদ হোসেনের মেয়ে ভূক্তভোগী নুরুন্নাহার বেগম জানান, আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, ঠিকভাবে হাঁটা-চলা করতে পারি না। আদরচর মৌজার বিএস ১৪৯ খতিয়ানের, ১২৯২/১২৯০ দাগের আন্দরে বাড়ি ভিটা ৭ গন্ডা বা ১৪ শতাংশ জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিক আমি নুরুনাহার বেগম।

পাশ্ববর্তী এলাকাবাসী নাজিম উদ্দীন বলেন, গত এক বছর ধরেই এই অসহায় প্রতিবন্ধী বোনের জমি আবুল হোসেন ও জামাল উদ্দিন দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশে বসলেও আবুল হোসেন ও জামাল উদ্দিন সালিশে উপস্থিত হয়নি।

এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদে মামলা দেয়া হলে। সেখানে আবুল হোসেন ও জামাল উদ্দিন তাদের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করে,তখন চেয়ারম্যান থাকে বের করে দেয়। চেয়ারম্যান আমাদের উচ্চ পর্যায়ে বিচার দায়ের করতে বলেন।পরর্বতীতে অসহায় প্রতিবন্ধী নুরুন্নাহার বেগম লোহাগাড়া থানায় একটা অভিযোগ দিলে যতক্ষণ পুলিশ আসে সে চুপচাপ থাকে, পুলিশ চলে যাওয়ার সাথে-সাথে এসে সে তাদের ওপর আক্রমণ চালায় মারধর করে। এর পাশাপাশি এই আক্রমণের সাক্ষ্য দিতে যাওয়ায় আমি সহ ১৩ জনকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ কবির আহাম্মদ নামের উনার বয়স বর্তমানে নব্বই বছর ও ওনি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ।

কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহমুদুল হক বলেন,একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশে বসে বসে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ায় চেষ্টা করলে সে সালিশে উপস্থিত না হয়ে বিভিন্ন ক্ষমতা দেখায়।তারিখ দিয়েও সে আসে না। সে টাকা ও ক্ষমতার জোরে গরিব,অসহায় প্রতিবন্ধীর জমি দখল করার চেষ্টা ও তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।।

তবে আবুল হোসেন ও জামাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,এ জমি আমাদের। তারা আমাদের জমির মধ্যে বাড়ি তৈরী করে বসবাস করে আসছে।এটা তাদের জমি নয়।

এ বিষয়ে কলাউজান ইউনিয়নে পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ ওয়াহিদ বলেন,আমি উভয়পক্ষের মধ্যে মিমাংসার জন্য চেষ্টা করেছি। এছাড়াও একটি পক্ষ খুব অসহায় ও প্রতিবন্ধী । সেদিকে লক্ষ রেখে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশে বসলেও আবুল হোসেন ও জামাল উদ্দিন সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তারপরও আমি চেষ্টা করছি যাতে বিষয়টি নিয়ে কোনো ঝামেলা না হয়।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাকারিয়া রহমান জিকু বলেন,বিষয়টি অবশ্যই আমি দেখব।শারীরিক প্রতিবন্ধী যখন আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।জমি তো এভাবে দখলের চেষ্টা চালাতে পারে না যেহেতু সে একজন প্রতিবন্ধি।