চকরিয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত ব্যবসায়ী লতিফ উল্লাহকে কুপিয়ে হত্যার মুল কারণ উদঘাটন করা হয়েছে। এমটাই জানান চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওসমান গনি।
প্রধান ঘাতক মিজানুর রহমান বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে জানান- স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ইশারায় বিকাশ লেনদেনের নাটক সাজিয়ে চোখে মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে স্হানীয় ৪/৫জনের সহযোগীতায় নির্মম এ হত্যাকান্ড ঘটায়।
প্রধান ঘাতক মিজানুর রহমান ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার বালকদিয়া বিনয়কাঠি ইউপি ৭নং ওয়ার্ডের মৃত জলিল আকনের পুত্র।
চকরিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে চকরিয়া থানার সার্বিক সহযোগিতায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস. আই মো. মজিবুর রহমান আলোচিত এই লতিফ হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেন।
গত ৩ জানুয়ারী রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের শমশের পাড়া চৌরাস্তার মাথায় ব্যবসায়ী লতিফ উল্লাহকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা তাহার ডিলারশীপ এর দোকানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
উক্ত বিষয়ে লতিফ উল্লাহর স্ত্রী সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় গত ৫ জানুয়ারী এজাহার দায়ের করিলে অফিসার ইনচার্জ চকরিয়া থানা মামলা রুজু করেন।
মামলা রুজু হওয়ার পর তদন্তকারী অফিসার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামী মিনহাজুল ইসলাম নয়ন কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।
পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়, ভিকটিমের মোবাইল ব্যাংকিং এর আর্থিক লেনদেনের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দা কেনার ভিডিও পর্যালোচনা করিয়া তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার সন্দেহে আসামী মিজানুর রহমানকে অত্র মামলায় গ্রেফতার করেন।
আসামী মিজানুর রহমানকে পুলিশ রিমান্ডে এনে অত্র মামলা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যমতে অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনার সময়ে ব্যবহৃত দা ক্রয়ের ভিডিও এবং তাহার পরিহিত পোষাকাদি ও ঘটনার পূর্বে ভিকটিমকে কল দিয়ে ডেকে আনার মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মিজানুর রহমানকে পুলিশ রিমান্ড শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে আসামী স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে নিজেকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।
বিজ্ঞ আদালতে আসামী মিজান স্বীকারোক্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে স্হানীয় আজিজ মুন্সীর পূত্র আশরাফুল ইসলাম আসিফের নাম উল্লেখ করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় আসামী আশরাফুল ইসলাম আসিফকেও গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। এনিয়ে এই মামলায় ৩ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামীদের ধরতে অত্র মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। লতিফ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।