বন্দুকধারী ছিল এক জন, দ্রুত আইনের আনা হবে: র‌্যাব

রাজধানীর শাহজাহানপুরে মতিঝিল আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও রিকশাআরোহী শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বন্দুকধারী এক জনই ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। মুখোশধারী ও হেলমেট পরিহিত সেই বন্দুকধারীকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ কথা বলেন।

র‌্যাব কমান্ডার বলেন, গুলিতে হত্যার ঘটনায় এরই মধ্যে বেশকিছু আলামত ও তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বন্দুকধারীকে (শুটার) শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, শুটার একজনই ছিল। মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত ছিল। র‌্যাবের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও এ ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকারী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি মো. জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪)। টিপুর গাড়ির পাশে থাকা রিকশার আরোহী সামিয়া আফনান প্রীতিও (২৪) ওই সময় একই ব্যক্তির গুলিতে নিহত হন। প্রীতি সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এই ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না (২৬) আহত হন। তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গুলিবিদ্ধ মনির হোসেন মুন্না জানান, জাহিদুল ইসলাম টিপুকে নিয়ে এজিবি কলোনি থেকে গাড়িতে করে শাজাহানপুরের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে শাজাহানপুর আমতলা মসজিদ এলাকায় যানজটে আটকে ছিলেন। হঠাৎ মুখোশ পরা এক ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করলে তারা গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে টিপু মারা যান।

গুলিতে নিহত প্রীতির সঙ্গে একই রিকশায় ছিলেন তার বান্ধবী সুমাইয়া। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তারা শাজাহানপুর আমতলা এলাকায় রিকশায় ছিলেন। তখন হঠাৎ কোথা থেকে গুলি এসে প্রীতির গায়ে লাগে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন, একজন মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি যানজটে আটকে থাকা গাড়িকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। টিপু ওই মাইক্রোবাসের সামনে ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান।

ডিসি আব্দুল আহাদ আরও বলেন, গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই ব্যক্তির গুলিতে যানজটে আটকে থাকা একটি রিকশার আরোহী এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আশা করি দ্রুতই হত্যাকারী গ্রেফতার হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.