নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাতে ইলিশ ধরতে সাগরে নামছেন জেলেরা

সাগরে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরার ওপর  গত ১৯ মে মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শনিবার (২৩ জুলাই) মধ্যরাত থেকে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরতে সাগরে নামবেন চট্টগ্রামের জেলেরা।

এরইমধ্যে শুরু হয়েছে হাকডাক। জাল, ফিশিং বোর্ডসহ নানা উপকরণ নিয়ে সাগরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। তবে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার মাছ শিকারে নেমে জেলে পাড়ার অনেক বাসিন্দা তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাবার আশা করছেন।

জানা যায়, শুধু সাগরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন চট্টগ্রামের এমন নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ২৩ জন। দীর্ঘ ৬৫ দিনের অপেক্ষার পর ফের কর্মব্যস্ত হয়ে পড়বেন জেলেরা।

চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট গিয়ে দেখা যায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে জেলেরা এসে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাগরে নামার। কেউ জাল বুনছেন তো  কেউ নৌকা ধোয়া-মোছা করছেন। কেউ কেউ রান্নার উপকরণ লাকড়ি যোগাড় করছেন। আবার কেউ কেউ শিকার হওয়া মাছ সংরক্ষণ করতে কর্কশিটের বক্সও প্রস্তুত করছেন।

দক্ষিণ কাট্টলী জেলে সর্দার খেলন দাশ বলেন, সরকার ৫৬ কেজি চাল দিয়েছিল। আরও ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে সেগুলো আমরা পাব। তবে দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়াতে ভালো লাগছে। জেলেরা এতোদিন সাগরে নামতে পারেনি। শনিবার মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর আনুমানিক ১৫০ জেলে মাছ শিকারে বের হবেন বলে জানান তিনি।

তবে বছরে এই ৬৫ দিনের বাইরে মা ইলিশ ধরায় ২২ দিন, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা, মার্চ-এপ্রিলের দুই মাসের অভয়ারণ্যের নিষেধাজ্ঞাসহ মোট ১৪৭ দিন নিষেধাজ্ঞা পালন করতে হয় সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার জেলেদের।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী সিভয়েসকে বলেন, সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। কাল থেকে সে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা সময়ে আমরা নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে ৫৬ কেজি করে চাল দিয়েছি। আরও ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ আছে। তা শিগগিরই বিতরণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, দেশের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও মাছের বংশবিস্তারে ২০১৫ সাল থেকে বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ। শুরুতে শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলেও ২০১৯ সালে সব ধরনের নৌযানকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এতে সমুদ্রে মৎস্য প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.