ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
বছর ঘুরতে না ঘুরতেই অরক্ষিত ঈদগাঁওর শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম। কাটা গেছে বৈদ্যুতিক সংযোগ। বিকল হয়ে পড়ে পানি উত্তোলন যন্ত্রটি। এলোমেলো আর ভাঙাচোরা প্লাস্টিকের গুটিকয়েক চেয়ারই যেন নাইট ওয়াচ ম্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত। ওয়াশরুম আর বাথরুম কোনটাই সাধু নেই, অসাধু আর নোংরা গন্ধ ছড়িয়ে বার্তা দিচ্ছে ‘ভেতরে এসো না প্লীজ’ । এটি ঈদগাঁও শেখ রাশেল মিনি স্টেডিয়াম ভবণের খন্ডচিত্র। রাতের অদ্ভূতুড়ে অন্ধকারে খাঁখাঁ করে ডুবে থাকে এই স্টেডিয়ামের একতলা ভবণটি। প্রহরী বা তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় রাতে মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠে। এমন অভিযোগ স্থানীয় ক্রীড়ামোদী অভিভাবকসহ স্টেডিয়ামমুখী খেলোয়াড় এবং দর্শক সাধারণের। জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোটভাই শেখ রাশেলের নামানুসারে ২০১৮ সালে ঈদগাঁও কলেজের অভ্যন্তরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই স্টেডিয়াম ভবণটি নির্মিত হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরে এটি কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২০-২০২১ পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ সঠিক নিয়ম চলে আসলেও ২০২২ সালের শুরু থেকেই সেই অবস্থার ছন্দপতন হতে থাকে। সর্বশেষ অবস্থা দৃষ্টে বোদ্ধামহলের ধারণা, ধীরে ধীরে ভবণটির ইট, লোহা বা মূল্যবান জিনিসপত্রগুলি বেহদিস হলেও আর্শ্চয্যের কিছু থাকবেনা। আরো জানা যায়,শেখ রাসেল স্টেড়িয়াম কমিটি থাকলেও সেখানে কোন ক্রীড়ামোদিসহ স্থানীয় সচেতন ব্যাক্তিবর্গরা স্থান পায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃ পক্ষ যদি একটু নজর দেয়,তাহলে এলাকার ক্রীড়ামোদিসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা সুফল ভোগ করতে পারবে স্টেডিয়ামের। দেখা যায়, ফুটবলার ক্রিকেটার সকাল বিকাল দুবেলার নিয়মমাফিক অনুশীলন করছে।সকালে একদল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ শরীরচর্চা করে ঘাম ঝরাতে ব্যস্ত। পানীয় পানি ও ব্যবহারের পানি না থাকায় তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতি দিন। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনেও ওয়াশরুম বা বাথরুম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ সেখানে পানি সরবরাহ নেই ও নোংরা আবর্জনা কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঈদগাঁও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের মতে, বিষয়টি তিনি জানতেন না। এখন জেনেছেন। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকার কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ করলেও সেই সুফল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ক্রীড়া প্রজন্ম। শহীদ শেখ রাশেলের নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামটি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এর ব্যবহার, সুফল নিশ্চিত করার দাবি সর্বমহলের।