কমিটি স্থগিতের পরও ভিপি পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা

দীর্ঘ ১৭ বছর পর চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রথমে এডহক কমিটি করে দুদিন পর সেই কমিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছিলেন সিটি কলেজের অধ্যক্ষ। এরপর এক ছাত্রের রিটে বিষয়টি গড়িয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। আদালত চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের নতুন কমিটির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। আদালতে কমিটি স্থগিত হলেও সেই কমিটির ব্যানারে শেখ কামালের জন্মদিন পালন করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মো. তাহসিন নামের এক ছাত্রলীগ নেতা।

শুধু তাই নয় চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক মসজিদে কিভাবে সিটি কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্র সংসদের ব্যানারে মিলাদ মাহফিল আয়োজন হয় সেই প্রশ্নও তুলেছেন সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের এখতিয়ার মো. তাহসিনের নেই জানিয়ে সিটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেছেন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাহসিনের নিজেকে ভিপি পরিচয় দেয়ার সুযোগ নেই।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বাদ আসর নগরের চান্দগাঁও থানাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনী জামে মসজিদে জাতির জনকের বড় পুত্র শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে মো. তাহসিন। নিজেকে ভিপি দাবি করে সিটি কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্র সংসদের ব্যানারে আয়োজিত এই মিলাদ মাহফিলে মো. তাহসিন বলেন, ‘শহীদ শেখ কামাল ছিলেন বিশিষ্ট ক্রিড়াবিদ। তিনি চট্টগ্রাম আবাহনী টিমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।’

এসময় সেখানে তাহসিন ছাড়াও ছাত্র সংসদের স্থগিত হওয়া কমিটির ছাত্র মিলনায়তন বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন সাকিবও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে তাহসিনের এমনকাণ্ডের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে বিস্তারিত জানতে  তাহসিনের সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে সিভয়েস থেকে কল দেয়া হয়েছে শুনেই তিনি কলটি কেটে মোবাইল বন্ধ করে দেন।

অন্যদিকে সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ড. সুদীপা দত্ত সিভয়েসকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। এর পর আর তাহসিন ভিপি নাই। সেতো ভিপি পরিচয় দিতে পারেনা। তাছাড়া ছাত্র সংসদের ব্যানারে বাইরে প্রোগ্রামও করতে পারেনা। আমি বিষয়টি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।’

প্রসঙ্গত এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে সিটি কলেজে ছাত্র সংসদের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এতে দিবা শাখায় আবু তাহেরকে ভিপি ও মারুফ আহমেদ ছিদ্দিকীকে জিএস করা হয়। আর বৈকালিক শাখায় রাজীব হাসান রাজনকে ভিপি ও জাহিদুল হক চৌধুরী মার্শালকে জিএস করা হয়। এরপর ১৭ বছর সেই দুই কমিটিই বহাল ছিল। গত ২১ জুলাই কলেজ অধ্যক্ষ এক অফিস আদেশে ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর গঠিত দিবা ও নৈশ শাখা ছাত্র সংসদের দুটি কমিটি বাতিল ঘোষণা করে নতুন  দুটি এডহক কমিটি ঘোষণা করেন। দুইদিনে সেই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গও করা হয়। পরে  ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেনের করা রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের যৌথ বেঞ্চ চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের নতুন কমিটির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দেন।

সুত্র সিভয়েস

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.