সীমান্তের অদূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে কয়েকদিন ধরে লাগাতার গোলাগুলির কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম, তুমব্রুসহ ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভয় আর আতঙ্কে লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লোকজনের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দীল মোহাম্মদ ভুট্টো জানান, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে গোলাগুলি চলছে। তবে তা এতদিন এপারের লোকজনের জীবনে যাপনে তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু গত শুক্রবার বাংলাদেশ অংশে ছুড়ে আসা মর্টার শেলের আঘাতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে সীমান্তের মানুষের জীবনমানের পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। মানুষ তীব্র আতঙ্ক নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে তুমব্রু, ঘুমধুম, ফাত্রাঝিরি, রেজু আমতলী এলাকার মানুষের জীবন এখন অনেকটা থমকে গেছে।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে তুমব্রু বাজার ও ঘুমধুম বাজারে স্বাভাবিকের চেয়ে কম লোকের চলাচল রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাজারের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে না। কেনাকাটার প্রয়োজন সেরে দ্রুত বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। বাজারে বিজিবির সদস্যরা টহল জোরদার রেখেছে।
তুমব্রু বাজারের দোকানদার আলী হোসেন, শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে বাজারে লোকজনের জমায়েত কমে গেছে। যারা কেনাকাটা করতে আসছেন তারা দ্রুত বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
তুমব্রু পশ্চিমকূল এলাকার খায়রুল আলম বলেন, আগে তেমন ভয় না লাগলেও এখন প্রতিনিয়ত ভয় তাড়া করে। গোলাগুলি হলে কলিজা কেঁপে উঠে। রাতে ঠিক মতো ঘুম হয় না। গোলাগুলির শব্দ শুনলেই শিশুরা চিৎকার করে।
ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র তানভির আশরাফ বলে, গোলাগুলির কারণে বিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। একই কারণে প্রাইভেট পড়তেও যেতে পারি না। তাই ঘরবন্দী হয়ে সময় কাটাতে হচ্ছে।
ঘুমধুম এলাকার বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার কারণে সীমান্তের কাছাকাছি চাষাবাদ করা জমিতে যাওয়া যাচ্ছে না। জমির পরিচর্যা করা যাচ্ছে না।
তুমব্রু হেডম্যান পাড়ার জীবন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, শুক্রবার সীমান্তে গরু আনতে গিয়ে মাইন বিস্ফারণে এক কিশোর আহত হওয়ার পর থেকে এই এলাকার মানুষের মনে স্বস্তি নেই। এই পাড়ার লোকজন এখন ভয়ে তটস্থ হয়ে রয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, নিরাপত্তার সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই কারণে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে লোকজনকে সরিয়ে নিতে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শিগগিরই তিনশ পরিবার সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হবে।
এদিকে আজ সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভিন তিবরীজি। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তের বাংলাদেশি যেসব পরিবার ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তাদের সরিয়ে নিতে ঝুঁকির পরিস্থিতি ও তাদের নিজস্ব মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে।