নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতকানিয়ার সাধারণ মুক্তিযুদ্ধোদের নানান ধরনের হয়রানীও মুক্তিযুদ্ধাদের সম্মানী থেকে মাসিক চাঁদাবাজিও ভুমিদস্যুসহ বিভিন্নরকম অপরাধের অভিযোগ তোলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধারা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
আজ ২৫শে সেপ্টেম্বর (রবিবার)সকালে উপজেলার কালিয়াইশের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাতকানিয়ার সাধারণ মুক্তিযুদ্ধাদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্ব দেন উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যানও বীর মুক্তিযুদ্ধা আলহাজ্ব হাফেজ আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন- আজকের সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ তোলা হলো তা ৪ঠা মে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এই অভিযোগ গ্রহণ করেন।
পরে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে- গেল ৩১শে মে ২০২২তারিখে মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি সুপারিশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন- মুক্তিযুদ্ধা সংসদ সাতকানিয়া উপজেলা শাখায় গঠিত কমিটিতে আবু তাহেরের বিপরীতে নির্বাচন করেন কালিয়াইশের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদ।
তখন মাত্র ১ভোটের ব্যবধানে জিতে যান আবু তাহের আর হেরে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদ।
সেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অপরাধে ক্ষিপ্ত হয়ে তখন থেকেই পিছু নেন হাফেজ আহমদসহ হাফেজের পুরো প্যানলের বিপক্ষে এই আবু তাহের।
আর সেই রেষ ধরে আবু তাহের ২০২১সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে হাফেজ আহমদসহ সাতকানিয়ার ৩জন মুক্তিযুদ্ধার কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা চাঁদাদাবী করলে –
ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সুকৌশলে অন্যদের মত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদের সনদ বাতিলের জন্যও সুপারিশ করেন এলএমজি আবু তাহের।
অথচ!এই পদ্ধতিতে এই এলএমজি আবু তাহেরকে ২০১৭সালে মুক্তিযুদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সাতকানিয়া প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন, পরে হাফেজ আহমদসহ অন্যরা সেই কমিটির বিরুদ্ধে আবু তাহেরকে বাদ দেয়ার জন্য এবং আবু তাহের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা আবু তাহের কিনা তা খতিয়ে দেখতে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট দায়ের করেন যার রীট পিটিশন নং ১৭৩৮/২০১৭।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট সেই রীটের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টা স্থগিত করে দিয়ে আবু তাহেরকে ভারতীয় তালিকাও লাল মুক্তিবার্তায় নাম আছে কিনা, থাকলে তা আদালতে জমা দেয়ার জন্যও বলা হয়েছিল।
কিন্তু আবু তাহের এখন পর্যন্ত সেই তথ্য মহামান্য হাইকোর্টে জমা দিতে পারেনি।
সেই একই ব্যক্তি কিভাবে ২০২১সালে আবারো প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পায়!
আর প্রতিনিধি হিসেবেই নিয়োগ পেয়েই ২০১৪সালে উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীও ২০১৭সালে আবু তাহেরকে অবৈধ উল্লেখ করে হাইকোর্টে রীট করা সেই বীর মুক্তিযুদ্ধা হাফেজ আহমদকে সুকৌশলে বাদ দিয়ে দেন বলে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য সুত্রে জানাযায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ সুত্রে আরো জানাযায়-
সাতকানিয়া উপজেলার মুক্তিযুদ্ধাদের একাংশ বরাবরই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে এই এলএমজি আবু তাহেরকে অস্বীকার করে আসছিল, তারই অংশ হিসেবে উপজেলায় বিভিন্নসময় লিপলেটও ফেস্টুন লাগিয়ে আসছিল স্থানীয়ও সাধারণ মুক্তিযুদ্ধারা।
শুধু তাই নয় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ সুত্রে আরো জানাযায়-২০১৬সালে ২১শে নভেম্বর সাতকানিয়া লোহাগাড়ার সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভী আবু তাহেরকে ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে যাতে ব্যবস্থা নেয় সেটা উল্লেখপূর্বক একটি সুপারিশপত্রও দেন।
এবং সেই সময় -সাতকানিয়া উপজেলার মাসিক আইনশৃংখলা মিটিং এ আবু তাহেরকে অবৈধও ভূমিদস্যু,চাঁদাবাজ উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও প্রস্তাব পাশ হয়।
এবং তৎকালীন একই প্রস্তাব রাখেন সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ লুনা।
ফারজানা আফরোজ লুনার তদন্তেও ওঠে এসেছিল সে একজন আসলেই অমুক্তিযোদ্ধা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরো জানান-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবরে প্রেরণকৃত তথ্যে আবু তাহেরকে ভূঁয়াও অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণসরূপ নথিতে জানাযায়-উপজেলার ছদাহার একজন অবিবাহিতও মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের যুদ্ধস্পট ছিল সেক্টর -০৬ যার লাল মুক্তিবার্তা নং-২০২০৬০১৯৫ তখন এই এলএমজি আবু তাহেরের MIS মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ছিল
০১১৫০০০৭৪৮০ যাতে লেখা ছিল ডাকঘর-পূর্ব গাঠিয়া ডেঙ্গা ইউপি নলুয়া উপজেলা সাতকানিয়া।
কিন্তু জামুকার কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিশেষ যোগসাজশে আগের MIS বাদ দিয়ে ছদাহার আবু তাহেরের লাল মুক্তিবার্তার নম্বর তার (আবু তাহেরের)নামে স্থলাভিষিক্ত করে রাতারাতি বনে যান এলএমজি আবু তাহের।
আর সেটার বিরুদ্ধেও সাতকানিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, এ কে এম সিরাজুল ইসলাম,রমিজ উদদীন,আবদুল মুনাফ,জাকের হোসাইন, মো-সাহেল উল্লাহ,শশাঙ্খ বিমল চৌধুরীও ওসমানগনিসহ ৯জন ২০২১সালের ২৮শে জানুয়ারী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যেটার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বিষয়টা খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেন, কিন্তু আবু তাহেরের অবৈধ তদবীরে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা আরো বলেন-স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের ইন্ধনে এবং বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে ২০২১সালে সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা যাচাইয়ের কমিটিতে থাকার সুবাদে অনেক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধা বানিয়ে দেন এই আবু তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধা নুরুল ইসলাম আক্ষেপের সুরে বলেন-একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা সরকার থেকে জায়গা লীজ নিতে পারেন নিয়মমত একবার।
কিন্তু সেই নিয়ম ভঙ্গ করে বিশেষ গোষ্ঠীর ইশারায় এই আবু তাহের ৪বার জায়গা লীজ নিয়েছেন যা নিজের নামে এবং বউ এর নামে কিছু ছেলে মেয়ের নামেও।
সেই লীজ নেয়া জায়গা ইতিমধ্যে দুজনকে দুইবার বিক্রিও করেছেন যা লীজের সম্পূর্ন পরিপন্থী।