ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ মেট্রোপলিটন হাসপাতালে, ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিশ

আনোয়ারা প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের আনোয়ারার নিজাম আহমদ উদ্দিন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে এনে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করে নগরীর চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন তার পরিবার।

গত ২৬ জানুয়ারী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু ঘটলে ১ মার্চ পরিবারের পক্ষে এডভোকেট মারুফ মো. নাজেবুল আলম এই নোটিশ দেন। তবে চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পরিচলাক মো. সেলিম ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ডাঃ মো. আবদুল মোতালিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবার ও নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারী নিজাম উদ্দিন আহমদ চৌধুরী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন নগরীর চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল মোতালিবের পরামর্শে ভর্তি করান। তার পরামর্শে চিকিৎসা চালায় সেখানে। ২৩ জানুয়ারী রোগীর পিটে ও হাতে ব্যাথা অনুভব করলে চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে ভর্তি করেন। পরের দিন রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে সিসিইউ থেকে ৩১২নং কেবিনে প্রেরণ করেন।

মৃত নিজাম উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর ভাই এড. সালাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, আমার ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আবদুল মোতালিব আমার ভাইয়ের হার্টের অবস্থা ভাল নয় জানিয়ে এনজিওগ্রাম করার জন্য হাসপাতালের একাউন্ট সেকশনে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে বললে আমরা তাৎক্ষণিক টাকা জমা করি। টাকা জমা হওয়ার পর ঐদিন ডাঃ আবদুল মোতালিব ক্যাথল্যাবে আমার ভাইয়ের বামহাতের রগ কেটে রিং লাগানোর পর সিসিইউ’তে পাঠিয়ে দেন। একই দিন বেলা সাড়ে ১২ টায় ডাঃ আবদুল মোতালিব আমাদের জানান আমার ভাইয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন, তাই পুনরায় এনজিওগ্রাম করিতে হইবে। এরপর তিনি আমার ভাইয়ের বামপায়ের রানের গোড়ালি দিয়ে এনজিওগ্রাম করে ক্ষতবিক্ষত করলে প্রচন্ড রক্তপাত শুরু হয়। পরে দুপুর ১ টায়র দিকে আমার ভাইয়ের মৃত্যু ঘটে।

এড. সালাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী আরো জানান, আমার ভাইয়ের মৃত্যুও পর চিকিৎপত্র নিয়ে আমি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে জানতে পারলাম একমাত্র ফেলোশিপ ইন্টার ভেনশন সম্পন্ন কার চিকিৎসক ছাড়া কেও রিং পড়াতে পারেন না। অথচ চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালে অর্থ লোভে ‘ফেলোশিপ ইন্টার ভেনশন’ বিহীন অনভিজ্ঞ চিকিৎসকরাই আমার ভাইয়ের হার্টের রিং পড়ালে আমার ভাই নিজাম উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যু ঘটে। আমার ভাইয়ে ২ শিশু পুত্র ও স্ত্রী দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। এ ঘটনায় আমি চিকিৎসক ডাঃ আবদুল মোতালিব ও চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালকে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চিকিৎসক ডাঃ আবদুল মোতালিবকে ফোন করলে তাঁর সহকারী পরিচয়ে এক লোক জানান, স্যার ব্যস্ত আছেন পরে ফোন দেন। কিছুক্ষণ পর আবারও কথা বলার চেষ্টা করলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পরিচালক মো. সেলিম ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, চট্টগ্রামে হার্টের রিং একমাত্র ফেলোশিপ ইন্টার ভেনশন সম্পন্ন চিকিৎসক হচ্ছেন ডাঃ আবদুল মোতালিব। এখানে চিকিৎসায় কোন ধরণের অবহেলা করা হয়নি। নিজাম উদ্দিন আহমদের পরিবারের লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর আমরা তাদের কাছে ডাক যোগে নোটিশের জবাব দিয়েছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.